বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে ‘দীপা’ নামটি আজও সমান জনপ্রিয়। সেই চরিত্রের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিতি পেয়েছিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা ঘোষ। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ লড়াই, অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন। রায়দিঘির ছোট শহর থেকে কলকাতার অভিনয় জগতে নিজের জায়গা তৈরি করার গল্প আজ অনেক তরুণ-তরুণীর কাছেই অনুপ্রেরণা।
সাংস্কৃতিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠা
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির বাসিন্দা স্বস্তিকা ঘোষের শৈশব কেটেছে এক সাংস্কৃতিক আবহে। তাঁর বাবা ও মা দু’জনেই সঙ্গীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ছোট থেকেই শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আলাদা টান তৈরি হয় স্বস্তিকার। গান, নাচ ও মঞ্চচর্চার মধ্যেই তাঁর বেড়ে ওঠা।
নাচের প্রতি ছিল বিশেষ টান
অভিনয়ের পাশাপাশি নাচও স্বস্তিকার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি ভরতনাট্যমের নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং ফোর্থ ইয়ার পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। ব্যস্ত শুটিং সূচির মধ্যেও সুযোগ পেলেই নাচের অনুশীলন করেন তিনি। শিল্পের প্রতি এই নিষ্ঠাই পরবর্তীতে অভিনয় জীবনেও তাঁকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
রায়দিঘি থেকে কলকাতায় অডিশনের লড়াই
আজ তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেও শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। অভিনয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে রায়দিঘি থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে কলকাতায় অডিশন দিতে আসতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনযাত্রা, অনিশ্চয়তা এবং বারবার চেষ্টা—সবকিছুর মধ্যেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।পরিবারের সমর্থন ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশেষ করে বাবা সবসময় তাঁর পাশে থেকেছেন। অডিশনের দিনগুলোতে বাবাই তাঁকে নিয়ে কলকাতায় আসতেন এবং সাহস জুগিয়েছেন প্রতিটি পদক্ষেপে।
ছোটপর্দায় আত্মপ্রকাশ থেকে জনপ্রিয়তার শিখরে
স্বস্তিকার অভিনয় জীবনের সূচনা হয় ‘সরস্বতীর প্রেম’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে। তবে প্রকৃত জনপ্রিয়তা আসে ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ সিরিয়ালে দীপা চরিত্রে অভিনয়ের পর। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর ধরে সম্প্রচারিত এই ধারাবাহিক দর্শকদের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলেছিল।দীপা ও সূর্যের সম্পর্ক, আবেগ এবং গল্পের নানা মোড় দর্শকদের মন জয় করেছিল। সেই সঙ্গে স্বস্তিকাও হয়ে ওঠেন বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
নতুন ধারাবাহিকে নতুন জুটি
বর্তমানে স্বস্তিকাকে দেখা যাচ্ছে ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’ ধারাবাহিকে। এই সিরিয়ালে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন অভিনেতা Soumyadeep Mukherjee। নতুন এই জুটিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সাফল্যের মধ্যেও শিকড়ের টান
কাজের ব্যস্ততায় রায়দিঘির বাড়িতে খুব বেশি যাওয়া হয় না স্বস্তিকার। সেখানে রয়েছেন তাঁর মা, দিদি, ভাই এবং ঠাকুমা। বর্তমানে টালিগঞ্জে বাবার সঙ্গে থাকেন তিনি। তবে নিজের শিকড়কে কখনও ভুলে যাননি এই অভিনেত্রী।পরিবারের সদস্যরা প্রতিদিন টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে দেখেন এবং তাঁর সাফল্যে গর্ব অনুভব করেন। রায়দিঘির সেই মেয়েটি আজ বাংলা সিরিয়ালের পরিচিত মুখ—এটাই পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির মেয়ে স্বস্তিকা ঘোষ আজ বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম পরিচিত মুখ। ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রী দীর্ঘ সংগ্রামের পর পৌঁছেছেন সাফল্যের শিখরে। ‘অনুরাগের ছোঁয়া’-র দীপা চরিত্রের জনপ্রিয়তার পর এবার নতুন ধারাবাহিক ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’-তে দেখা যাচ্ছে তাঁকে।








