ট্যাংরা কাণ্ড: খুনের দায় স্বীকার প্রসূনের, তবে কী করছিলেন দাদা প্রণয়? তদন্তে নতুন রহস্য

ট্যাংরা কাণ্ড: খুনের দায় স্বীকার প্রসূনের, তবে কী করছিলেন দাদা প্রণয়? তদন্তে নতুন রহস্য
সর্বশেষ আপডেট: 22-02-2025

ট্যাংরার দে পরিবারে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়। বাড়ির দুই গৃহবধূ ও এক নাবালিকার হাতের শিরা কেটে হত্যা নিয়ে তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। ছোট ভাই প্রসূন দে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বীকার করেছেন যে তিনিই নিজের স্ত্রী, বৌদি এবং কন্যাকে খুন করেছেন। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো—এই ঘটনার সময় বড় ভাই প্রণয় দে কোথায় ছিলেন? পুলিশ সন্দেহ করছে, শুধুমাত্র প্রসূনই নয়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন তাঁর দাদাও।

তিনটি মৃত্যু, একটি রহস্য—দায় কার?

তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যার আগে বাড়ির দুই গৃহবধূ সুদেষ্ণা দে ও রোমি দে, এবং নাবালিকা রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানো খাবার খেয়েছিলেন। প্রসূন ও প্রণয় দু'জনেই দাবি করেছেন, তাঁদের স্ত্রীরা স্বেচ্ছায় আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলেই ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যদি তাঁরা ঘুমিয়ে থেকেও প্রাণে বাঁচার জন্য কোনও প্রতিরোধের চেষ্টা না করে থাকেন, তবে কি তাঁদের জোর করে অচেতন করা হয়েছিল? তদন্তকারীদের অনুমান, বড় ভাই প্রণয় হয়তো হত্যাকাণ্ডের সময় প্রসূনকে সাহায্য করেছিলেন, হয়তো বা তাঁদের হাত-পা চেপে ধরে রেখেছিলেন, যাতে তাঁরা কোনও প্রতিরোধ করতে না পারেন।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মিলছে না দুই ভাইয়ের বয়ান

তদন্ত আরও জটিল করে তুলেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, তিনজনের মৃত্যু হয়েছে ঘটনার ৩৬-৪৮ ঘণ্টা আগে। অথচ প্রসূন ও প্রণয় দাবি করেছেন, ১৭ ফেব্রুয়ারির রাতে তাঁরা সবাই ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন এবং পরদিন সকালে প্রসূন হত্যাকাণ্ড ঘটান। কিন্তু ফরেনসিক রিপোর্ট জানাচ্ছে, নিহতদের শেষ খাবার গ্রহণের সময় মৃত্যু হওয়ার মাত্র ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা আগে।

হত্যাকাণ্ডের দিন কী ঘটেছিল?

ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে বা দুপুরে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়েছিল, এবং এরপরই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সেদিন সারাদিন পাওনাদাররা দে বাড়িতে ডাকাডাকি করলেও কেউ কোনও সাড়া দেয়নি। রাতের অন্ধকারে দুই ভাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

তদন্তে নতুন মোড়, পুলিশের নজরে দুই ভাই

প্রমাণ মিলেছে, বাড়ির তিন তলা থেকে রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে ও কেন এই রক্তমাখা পোশাক ওখানে গেল? তাহলে কি সত্যিই শুধু প্রসূন নন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন তাঁর দাদাও?

একদিকে দুই ভাইয়ের স্বীকারোক্তি, অন্যদিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট—দু’টি একে অপরের সঙ্গে মিলছে না। ফলে পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন নিশ্চিত হতে চাইছেন, খুনের নেপথ্যে শুধুই প্রসূন, না কি দুই ভাই মিলে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন? পুলিশের কৌতূহল এখন একটাই—ট্যাংরা কাণ্ডের প্রকৃত সত্য কী?

Leave a comment