TB Symptoms: অমিতাভ বচ্চনের মতো তারকারাও আক্রান্ত হয়েছেন যক্ষ্মায়! শরীরে এই লক্ষণগুলি দেখা দিলে সাবধান

দীর্ঘদিনের কাশি, জ্বর, রাতের ঘাম ও অকারণে ওজন কমে যাওয়া যক্ষ্মার সতর্কবার্তা হতে পারে। জানুন টিবির সম্ভাব্য লক্ষণ এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

একসময় যক্ষ্মাকে ‘রাজরোগ’ বলা হত। অতীতে এই রোগকে দারিদ্র্য ও অপুষ্টির সঙ্গে বেশি করে যুক্ত করা হলেও বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষই টিবিতে আক্রান্ত হতে পারেন। এমনকি একাধিক পরিচিত তারকারও অতীতে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। তবে রোগটি প্রথমদিকে নীরবে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী কিছু শারীরিক পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টিবি কীভাবে শরীরে প্রভাব ফেলে?

যক্ষ্মা মূলত একটি সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা সবচেয়ে বেশি ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। তবে শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগের শুরুতে উপসর্গ তুলনামূলকভাবে মৃদু হওয়ায় অনেকেই সাধারণ সর্দি-কাশি বা দুর্বলতা ভেবে বিষয়টি এড়িয়ে যান।কিন্তু সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষণগুলি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে কোনও উপসর্গ থাকলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিনের কাশি হতে পারে বড় সতর্কবার্তা

টিবির অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হল দীর্ঘস্থায়ী কাশি। কয়েক সপ্তাহ ধরে কাশি না কমলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কিছু ক্ষেত্রে কাশির সঙ্গে ঘন কফ বা রক্তও দেখা যেতে পারে।এর পাশাপাশি বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট বা সামান্য দৈনন্দিন কাজ করলেই অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে এই লক্ষণগুলি অন্য অনেক রোগের ক্ষেত্রেও হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ দেখে টিবি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

জ্বর, রাতের ঘাম ও হঠাৎ ওজন কমছে?

ফুসফুসের সমস্যার পাশাপাশি টিবি আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে আরও কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—

দীর্ঘদিন ধরে জ্বর থাকা

রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

অকারণে ওজন কমে যাওয়া

খিদে কমে যাওয়া

সবসময় দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা

শরীরের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া

এই ধরনের একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ফুসফুসের বাইরে ছড়ালেও দেখা দিতে পারে অন্য লক্ষণ

টিবি শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নয়। শরীরের অন্য অঙ্গ আক্রান্ত হলে লক্ষণও ভিন্ন হতে পারে। যেমন লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবে রক্ত দেখা, মেরুদণ্ড আক্রান্ত হলে পিঠে ব্যথা কিংবা মস্তিষ্কের আবরণে সংক্রমণ হলে তীব্র মাথাব্যথা ও বিভ্রান্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণ আরও সূক্ষ্ম হতে পারে। দীর্ঘদিন জ্বর, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া বা অস্বাভাবিক খিটখিটে আচরণও কখনও সতর্কবার্তা হতে পারে।

সুপ্ত টিবি ও সক্রিয় টিবির পার্থক্য

যক্ষ্মার ক্ষেত্রে সুপ্ত ও সক্রিয় সংক্রমণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সুপ্ত টিবিতে সাধারণত কোনও উপসর্গ থাকে না এবং আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত অন্যকে সংক্রমিত করেন না। তবে চিকিৎসা না হলে কিছু ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এটি সক্রিয় টিবিতে পরিণত হতে পারে।অন্যদিকে সক্রিয় টিবিতে উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে এবং বিশেষ করে ফুসফুসের টিবি আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

দীর্ঘদিন ধরে কাশি, বারবার জ্বর, রাতের ঘাম, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, কাশির সঙ্গে রক্ত বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগের কারণ নির্ণয় করতে পারেন।মনে রাখতে হবে, এই উপসর্গগুলির কোনও একটি থাকলেই টিবি হয়েছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের মাধ্যমেই রোগ নির্ণয় করা সম্ভব।

যক্ষ্মা বা টিবি শুধু দরিদ্র মানুষের রোগ—এমন ধারণা এখন আর ঠিক নয়। যে কোনও আর্থ-সামাজিক স্তরের মানুষ এই সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন। প্রথমদিকে লক্ষণ খুব স্পষ্ট না হওয়ায় অনেক সময় রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। দীর্ঘদিনের কাশি, জ্বর, রাতের ঘাম, অকারণে ওজন কমে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

Leave a comment