Cyclonic Circulation Transferred Into Low Pressure: ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে ফের দুর্যোগের ভ্রুকুটি! ঝোড়ো হাওয়া-বৃষ্টিতে কোন কোন জেলায় সতর

ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস। ঘণ্টায় ৫৫-৬০ কিমি ঝোড়ো হাওয়া, মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা—জেনে নিন কোন কোন জেলায় প্রভাব পড়বে।

উইকএন্ডে ফের দুর্যোগের আশঙ্কা বাংলায়। উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি ঘূর্ণাবর্ত এবার নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। তার সঙ্গে সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার দাপট দেখা যেতে পারে। ফলে সপ্তাহান্তে ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঘূর্ণাবর্ত থেকে নিম্নচাপ, বাড়বে দুর্যোগ

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশ এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপর তৈরি হওয়া ঘূর্ণাবর্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় এই নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে পূর্বাভাস।নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তার সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। ফলে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ঘণ্টায় ৫৫-৬০ কিমি বেগে হাওয়ার আশঙ্কা

নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকায় ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।আবহাওয়া দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী সোমবার, ২৭ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা?

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বৃষ্টির তীব্রতা বেশি হতে পারে।এই তিন জেলায় পরিস্থিতি অনুযায়ী কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার ও সোমবার হলুদ সতর্কতার পাশাপাশি রবিবার কমলা সতর্কতার কথাও জানানো হয়েছে।এ ছাড়াও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

কলকাতাতেও বাড়বে বৃষ্টির দাপট?

রাজধানী কলকাতাতেও সপ্তাহান্তে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। বিশেষ করে রবিবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে শহরবাসীর দৈনন্দিন কাজে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কোথাও জল জমলে যান চলাচলেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তরবঙ্গে এখনই বড় দুর্যোগ নয়

এই মুহূর্তে দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কম থাকবে। আজ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

কেন বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি?

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশ ও সংলগ্ন বাংলাদেশ এলাকায় ঘূর্ণাবর্ত এবং বাংলার উপর সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা—এই দুইয়ের প্রভাবেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।তবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বড় কোনও বৃষ্টির সতর্কতা নেই বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশ ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি ঘূর্ণাবর্ত নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে বইতে পারে ঘণ্টায় ৫৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করেছে আবহাওয়া দফতর।

Leave a comment