উত্তরবঙ্গে বর্ষার দাপট আরও বাড়ল। সিকিম ও ভুটানে টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা, জলঢাকা-সহ একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গজলডোবা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে নদী সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিস্তার জল বাড়তেই গজলডোবা ব্যারেজ থেকে জল ছাড়া
অবিরাম বৃষ্টির কারণে তিস্তা অববাহিকায় জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতির উপর নজর রেখে গজলডোবা ব্যারেজ থেকে ৩,০৮৬ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এর ফলে তিস্তার পাশাপাশি জলঢাকাসহ আশপাশের নদীগুলির জলস্তরও বাড়ছে।
লাল ও হলুদ সতর্কতা জারি
জলপাইগুড়ি জেলা ফ্লাড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, এনএইচ-৩১ সংলগ্ন জলঢাকা নদীর সংরক্ষিত এলাকায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে তিস্তার দোমহনি ও মেখলিগঞ্জের অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা বলবৎ রয়েছে। প্রশাসন নদীপাড়ের বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া নদীর ধারে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
যান চলাচলে বিঘ্ন, প্লাবিত বাড়িঘর
তিস্তার জল বেড়ে যাওয়ায় সিকিমমুখী সড়কের কিছু অংশে জল উঠে পড়েছে। ফলে যান চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের টোডালিয়াপাড়া এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে জল ঢুকে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চাষের জমিতে জল, ক্ষতির মুখে কৃষকরা
নদীর জল বাড়ার জেরে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, রসুন-সহ বিভিন্ন ফসল জলের তলায় চলে গিয়ে বড়সড় ক্ষতি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, হঠাৎ জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই প্রস্তুতির সুযোগ পাননি। কোথাও বাড়িতে জল ঢুকেছে, কোথাও আবার চাষের জমি ভেসে গেছে। নদীর পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
সিকিম ও ভুটানে অবিরাম বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের তিস্তা, জলঢাকাসহ একাধিক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। গজলডোবা ব্যারেজ থেকে ৩,০৮৬ কিউসেক জল ছাড়ার পর জলঢাকা নদীর সংরক্ষিত এলাকায় লাল এবং তিস্তার কিছু অংশে হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। ইতিমধ্যেই জল ঢুকেছে কয়েকটি বাড়িতে, ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষিজমি।












