Walking Mistakes: হাঁটার সময় এই ১০ ভুলেই বাড়তে পারে হাঁটু, কোমর ও পিঠের সমস্যা! সুস্থ থাকতে জেনে নিন সঠিক নিয়ম

হাঁটার সময় কোন ১০টি সাধারণ ভুল এড়ানো উচিত? সঠিক জুতো, ভঙ্গি, গতি, জলপান ও নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জেনে সুস্থ থাকুন।

ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা, ওজন কমানো থেকে শুরু করে মানসিক চাপ কমানো—নিয়মিত হাঁটার উপকারিতা অনেক। তবে শুধু হাঁটলেই হবে না, হাঁটতে হবে সঠিক নিয়ম মেনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার সময় কয়েকটি সাধারণ ভুল দীর্ঘমেয়াদে হাঁটু, কোমর, গোড়ালি ও মেরুদণ্ডের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস থাকলে এই বিষয়গুলি অবশ্যই জেনে রাখা প্রয়োজন।

সঠিক জুতো না পরা

হাঁটার সময় চটি, স্যান্ডেল বা খালি পায়ে হাঁটা এড়ানো উচিত। আবার অতিরিক্ত টাইট বা ঢিলেঢালা জুতাও সমস্যার কারণ হতে পারে। আরামদায়ক, সঠিক মাপের ওয়াকিং শু ব্যবহার করলে পায়ের ওপর চাপ কম পড়ে এবং আঘাতের ঝুঁকিও কমে।

মেরুদণ্ড ঝুঁকিয়ে হাঁটা

হাঁটার সময় শরীর কুঁজো করে বা সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটলে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। সবসময় মাথা ও পিঠ সোজা রেখে হাঁটার চেষ্টা করুন।

সবসময় নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটা

শুধু পায়ের দিকে তাকিয়ে হাঁটলে ঘাড়ে ব্যথা, ভারসাম্যহীনতা এবং পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। সামনে নজর রেখে এবং মাঝেমধ্যে রাস্তার অবস্থাও দেখে হাঁটা সবচেয়ে নিরাপদ।

শুরু থেকেই খুব দ্রুত হাঁটা

হাঁটা শুরু করেই জোরে হাঁটবেন না। প্রথমে ধীরে হাঁটুন, এরপর ধীরে ধীরে গতি বাড়ান। এতে শরীর ও পেশি ওয়ার্ম-আপ হওয়ার সুযোগ পায়।

পেট ভরে খাওয়ার পর দ্রুত হাঁটা

খুব বেশি খাওয়ার পর ব্রিস্ক ওয়াক করলে অম্বল, পেটব্যথা, গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। খাবারের পর কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে হাঁটা ভালো।

ব্যথা উপেক্ষা করে হাঁটা

হাঁটার সময় হাঁটু, গোড়ালি বা কোমরে ব্যথা হলে সেটিকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়। ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ জেনে তবেই আবার নিয়মিত হাঁটা শুরু করা উচিত।

হাত না নাড়িয়ে বা মোবাইল দেখতে দেখতে হাঁটা

হাঁটার সময় স্বাভাবিকভাবে দুই হাত দোলালে শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ক্যালোরি খরচও বাড়ে। মোবাইল ফোনে চোখ রেখে হাঁটলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

অসমতল বা এবড়োখেবড়ো পথে হাঁটা

গর্ত বা অসমান রাস্তায় হাঁটলে গোড়ালি মচকে যাওয়া বা পড়ে গিয়ে চোট লাগার আশঙ্কা থাকে। সম্ভব হলে সমতল ও নিরাপদ পথে হাঁটার অভ্যাস করুন।

পর্যাপ্ত জল না খাওয়া

হাঁটার সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়। তাই হাঁটার আগে এবং প্রয়োজনে হাঁটার সময়ও পর্যাপ্ত জল পান করা প্রয়োজন। এতে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং ক্লান্তিও কম হয়।

নিয়মিত না হাঁটা

একদিন হাঁটা আর কয়েকদিন বিরতি নিলে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া কঠিন। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন অন্তত ৩০ মিনিট নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে কার্যকর।

বিশেষজ্ঞদের অতিরিক্ত পরামর্শ

হাঁটার সময় মাথা উঁচু ও কাঁধ শিথিল রাখুন।

স্বাভাবিক ছন্দে শ্বাস-প্রশ্বাস নিন।

ব্রিস্ক ওয়াকের সময় হাত স্বাভাবিকভাবে দোলান।

ব্যথা, মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

দ্রষ্টব্য: "মেরুদণ্ড বেঁকে যাবে", "বুকে ব্যথা হবেই" বা "শ্বাসকষ্ট শুরু হবে"—এ ধরনের ফলাফল সবার ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে ঘটে না। এগুলি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বা ভুল অভ্যাস দীর্ঘদিন চললে ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

প্রতিদিন হাঁটা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তবে ভুল ভঙ্গি, অনুপযুক্ত জুতো, অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো বা অনিয়মিত অভ্যাসের কারণে উপকারের বদলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটার সময় কিছু সাধারণ ভুল এড়াতে পারলেই মিলবে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য উপকার।

Leave a comment