বর্ষাকাল মানেই বাজারে ইলিশের আগমন। কাকদ্বীপ, নামখানা ও ডায়মন্ড হারবারের ঘাটে ইতিমধ্যেই ধরা পড়তে শুরু করেছে রুপোলি শস্য। আর সেই ইলিশকে একটু অন্যভাবে পরিবেশন করতে চাইলে ভরসা হতে পারে ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যবাহী রেসিপি। সর্ষের ঝাঁজ, রসুনের সুগন্ধ আর ভিনিগারের হালকা টক স্বাদ মিলিয়ে এই পদ তৈরি করে এক অনন্য রন্ধনশৈলী।
ঠাকুরবাড়ির রান্নাঘর থেকে বাঙালির পাতে
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জোড়াসাঁকোর বাড়িতে খাবারের বৈচিত্র্য ছিল সুবিদিত। সেখানে শুধু ঐতিহ্যবাহী বাঙালি রান্নাই নয়, দেশি-বিদেশি নানা উপাদানের সংমিশ্রণেও তৈরি হত অভিনব পদ। সেই ধারারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এই বিশেষ ইলিশ রেসিপি, যেখানে ভিনিগারের ব্যবহার পদটিকে দেয় আলাদা মাত্রা।
কী কী লাগবে এই রেসিপিতে?
চার টুকরো ইলিশ মাছের জন্য প্রয়োজন হবে ৩ চা চামচ গোটা কালো সর্ষে, ১ টেবিল চামচ রসুন কুচি, ৩টি শুকনো লঙ্কা, ২ চা চামচ ভিনিগার, ৬ চা চামচ সর্ষের তেল এবং স্বাদমতো নুন। চাইলে সামান্য হলুদ গুঁড়োও ব্যবহার করা যেতে পারে।
মশলার পেস্ট তৈরির কৌশল
প্রথমে কালো সর্ষে ও শুকনো লঙ্কা একসঙ্গে বেটে বা গুঁড়ো করে নিতে হবে। এরপর এর সঙ্গে রসুন কুচি, ভিনিগার, নুন, সামান্য হলুদ ও অল্প জল মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করতে হবে। এই মশলাই রেসিপির আসল প্রাণ, যা ইলিশের স্বাদকে নতুন মাত্রা দেয়।
কীভাবে রান্না করবেন?
প্রস্তুত মশলার পেস্ট ইলিশ মাছের টুকরোগুলিতে ভালোভাবে মাখিয়ে অন্তত ১৫-২০ মিনিট রেখে দিন। এরপর একটি প্যানে সর্ষের তেল গরম করে মাছগুলো সাজিয়ে দিন। আলাদা করে জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাছ থেকে বের হওয়া জলেই রান্না হবে পদটি। ঢেকে প্রায় ১০ মিনিট রান্না করলেই তৈরি হয়ে যাবে ঠাকুরবাড়ির বিশেষ ইলিশ।
স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিতেও ভরপুর
পুষ্টিবিদদের মতে, ইলিশে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ইলিশ খেলে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। তাই স্বাদের সঙ্গে স্বাস্থ্য উপকারিতাও মিলবে এই রেসিপিতে।
বর্ষা আর ইলিশ—এই দুইয়ের মিলনেই বাঙালির রসনা উৎসব। তবে চিরাচরিত সর্ষে ইলিশের বাইরে এবার বাড়িতেই তৈরি করতে পারেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির এক বিশেষ ইলিশ পদ। সর্ষে, রসুন, শুকনো লঙ্কা ও ভিনিগারের অভিনব সংমিশ্রণে তৈরি এই রেসিপি স্বাদে যেমন আলাদা, তেমনই সহজ রান্নায় মন জয় করবে পরিবারের সকলের।













