স্বচ্ছতা নিয়ে কেন্দ্রের দাবি বহুবার প্রশ্নের মুখে উঠেছে। এবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকেই যে তথ্য পেশ করা হয়েছে, তা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। তৃণমূলের দাবি—কেন্দ্র নিজেই স্বীকার করল স্বচ্ছ ভারত মিশনের লক্ষ্যপূরণ পুরোপুরি হয়নি। মিশনের প্রথম ধাপ সফল হলেও দ্বিতীয় ধাপ প্রায় শেষ হতে চললেও এখনও লক্ষাধিক গ্রামকে ODF ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি।
![]()
ওডিএফ লক্ষ্যে এখনও পিছিয়ে দেশ
২০১৪ সালের ২ অক্টোবর স্বচ্ছ ভারত মিশন চালু করে দেশকে উন্মুক্ত মলত্যাগমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছিল কেন্দ্র। ২০১৯ সালে প্রকল্পের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানো হয়। কিন্তু মিশনের দ্বিতীয় পর্ব শেষ হওয়ার মুখে গিয়ে দেখা যাচ্ছে—দেশের প্রায় ১ লক্ষ গ্রাম এখনও ODF নয়।লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্যই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ভি সোমান্না।
![]()
প্রথম পর্যায়ে বড় সাফল্য, দ্বিতীয় পর্যায়ে গতি কম
রাষ্ট্রমন্ত্রী সোমান্না জানিয়েছেন—২০১৪–২০১৯ সালের মধ্যে স্বচ্ছ ভারত মিশনের প্রথম পর্যায়ে গোটা দেশে ১০ কোটিরও বেশি ব্যক্তিগত শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ODF ঘোষণা করা হয়েছিল।কিন্তু দ্বিতীয় পর্বে এসে সেই গতিকে ধরে রাখা যায়নি বলেই তৃণমূলের অভিযোগ।
তৃণমূলের তোপ: কেন্দ্রের উত্তরেই ধরা পড়ল ব্যর্থতা
তৃণমূল সংসদীয় দলের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের প্রতিবেদনে স্পষ্ট—স্বচ্ছতায় বাস্তব কাজ যথাযথ হয়নি। যেসব গ্রামকে ODF দেখানো হয়েছিল, সেগুলির বড় অংশ এখনও পূর্ণ স্যানিটেশন কাভারেজ পায়নি।তাঁদের অভিযোগ—
![]()
প্রকল্পের লক্ষ্য ও অগ্রগতি দু’টোর মধ্যেই বড় ফাঁক
রিপোর্টে শুধু নির্মিত শৌচাগারের তথ্য দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে ব্যবহার হচ্ছে কি না তার কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য নেইএখনও ১ লক্ষ গ্রাম সম্পূর্ণ স্যানিটেশন কাভারেজের বাইরে
নতুন প্রশ্ন: মিশনের বাস্তব চিত্র কী?
এমন পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ ভারত মিশনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। শৌচাগার নির্মাণ হলেও অনেক জায়গায় রক্ষণাবেক্ষণ নেই, জল সংযোগ নেই, ফলে মানুষের ব্যবহারও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের কার্যকারিতা ও মনিটরিং নিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধী দল।
লোকসভায় তৃণমূল সাংসদ মালা রায়ের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যেই ধরা পড়ল স্বচ্ছ ভারত মিশনের বড় ব্যর্থতা। দ্বিতীয় পর্ব শেষের মুখেও এখনও প্রায় ১ লক্ষ গ্রামকে ‘উন্মুক্ত মলত্যাগ মুক্ত’ করা যায়নি বলে অভিযোগ তুলছে তৃণমূল।








