Agriculture News: ১৮০ টাকা কেজি দর! রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতিতে বিশ্বমঞ্চে তুলাইপাঞ্জি, চাষে বদলাতে পারে বাংলার কৃষকের ভাগ্য

উত্তরবঙ্গের তুলাইপাঞ্জি ধান পেল রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজ স্বীকৃতি। বাজারে কেজি প্রতি ১৮০ টাকা দর, চাষে মিলতে পারে মোটা লাভ। জানুন ফলন, বাজার ও সম্ভাবনার বিস্তারিত।

চিরাচরিত আমন বা বোরো ধানে লাভ কমে যাওয়ার অভিযোগ বহুদিনের। উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু বাজারদর সেই অনুপাতে উঠছে না—এমনই আক্ষেপ শোনা যায় কৃষকদের মুখে। এরই মাঝে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তুলাইপাঞ্জি ধান নিয়ে এলো বড় সুখবর। রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজ স্বীকৃতি ও বাজারে কেজি প্রতি ১৮০ টাকা পর্যন্ত দর—এই দুই মিলিয়ে চাষিদের সামনে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার।

উত্তরবঙ্গের গর্ব এখন বিশ্বমঞ্চে

উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মাটিতে জন্ম নেয় তুলাইপাঞ্জি। সরু দানার, অপূর্ব সুগন্ধি এই চাল বহুদিন ধরেই রসনাবিলাসীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। আগে থেকেই জিআই তকমা পাওয়া এই ধান এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিচিতি লাভ করেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতি রপ্তানির বাজার প্রসারিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

১৮০ টাকা কেজি—লাভের অঙ্কে বড় চমক

বর্তমানে খুচরো বাজারে তুলাইপাঞ্জি চালের দাম কেজি প্রতি ১৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। সাধারণ ধানের তুলনায় যা কয়েকগুণ বেশি। ফলে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও, সঠিক বাজার সংযোগ থাকলে কৃষকের হাতে আসতে পারে মোটা লাভ। স্থানীয় চাষিদের দাবি, এক বিঘা জমিতে প্রায় আট মণ পর্যন্ত ফলন মিলতে পারে—যা অর্থনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক।

রেলের উদ্যোগে বাড়ছে পরিচিতি

রাষ্ট্রপুঞ্জের স্বীকৃতির পর তুলাইপাঞ্জি চালকে আরও জনপ্রিয় করতে রেলের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউ কোচবিহার, মালবাজার, জলপাইগুড়ি রোড ও রায়গঞ্জ স্টেশনের কোচ রেস্তোরাঁয় এই চালের ভাত পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে দেশ-বিদেশের পর্যটক ও যাত্রীদের কাছে এই বিশেষ চালের স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

দেশ-বিদেশে বাড়ছে চাহিদা

তুলাইপাঞ্জির সরু দানা, নরম টেক্সচার ও অনন্য সুগন্ধই এর মূল আকর্ষণ। শিলিগুড়ির জৈব হাট থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রিমিয়াম বাজারে এই চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিদেশের বাজারেও ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ব্র্যান্ডিং ও সংরক্ষণ পদ্ধতি বজায় রাখতে পারলে তুলাইপাঞ্জি হয়ে উঠতে পারে বাংলার ‘প্রিমিয়াম রাইস ব্র্যান্ড’।

যত্ন বেশি, লাভও বেশি

তবে এই ধান চাষ সহজ নয়। রোগপোকা নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সময় সেচ ও আগাছা দমন—সব ক্ষেত্রেই বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। তবুও অধিক দামের কারণে কৃষকেরা ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা মিললে তুলাইপাঞ্জি চাষ হতে পারে গ্রামীণ অর্থনীতির গেমচেঞ্জার।

উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী তুলাইপাঞ্জি ধান পেয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের হেরিটেজ স্বীকৃতি। বাজারে কেজি প্রতি ১৮০ টাকা পর্যন্ত দর উঠেছে এই সুগন্ধি চালের। জিআই তকমা পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কৃষকদের সামনে খুলে দিল বড় আয়ের সম্ভাবনা।

Leave a comment