Agriculture News: ফলনের জোয়ার, তবু দুশ্চিন্তা! আলুর দামে ধস, ন্যায্য মূল্যের আশায় প্রহর গুনছেন চাষিরা

পূর্ব বর্ধমানে ৬৯ হাজার হেক্টরে আলু চাষ, ফলন ভালো হলেও বাজারে বস্তাপিছু মাত্র ২২০-২৫০ টাকা দর। বিঘাপিছু ৫-৭ হাজার টাকা ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন চাষিরা।

জমিতে ফলনের জোয়ার এলেও হাসি ফুটছে না কৃষকের মুখে। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর না থাকায় লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন পূর্ব বর্ধমানের আলু চাষিরা। বিশেষ করে পূর্বস্থলী ২ ব্লকের কাঁলেখাতলা ১ পঞ্চায়েতের ধিতপুর এলাকায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। চাষিদের দাবি, খরচ বাড়লেও দাম না বাড়ায় আর্থিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

ফলন ভালো, দাম নেই—দ্বৈত সংকটে আলু চাষ

এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন হয়েছে চমৎকার। আধুনিক সেচব্যবস্থা ও উন্নত বীজ ব্যবহার করায় উৎপাদন বেড়েছে। কিন্তু বাজারে সেই ফলনের প্রতিফলন নেই। ধিতপুর এলাকায় বহু চাষি জানিয়েছেন, বাজারে আলুর দর এতটাই কম যে উৎপাদন খরচ তোলাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিঘাপিছু ২৫ হাজার খরচ, বস্তাপিছু ২২০ টাকা দর

চাষিদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে বর্তমানে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। বীজ, সারের মূল্যবৃদ্ধি, সেচ ও শ্রমিক খরচ—সব মিলিয়ে ব্যয় বেড়েছে। অথচ বাজারে এক বস্তা আলুর দাম মিলছে মাত্র ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। এই দামে চাষের খরচ ওঠানোই কঠিন, লাভের প্রশ্নই ওঠে না বলে দাবি তাঁদের।

বিঘাপিছু ৫-৭ হাজার টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

অনেক চাষিকেই ঋণ নিয়ে চাষ করতে হয়েছে। ফলে লোকসানের আশঙ্কা আরও বাড়ছে। চাষিদের বক্তব্য, ফলন স্বাভাবিক হলেও বিঘা পিছু পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন না হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৬৯ হাজার হেক্টরে চাষ, উৎপাদনে শীর্ষে পূর্ব বর্ধমান

জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলায় মোট প্রায় ৬৯ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। শক্তিগড় থেকে মশাগ্রাম পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ‘জলদি’ আলুর চাষ বেশি হয়। পাশাপাশি গলসি, আউশগ্রাম, পূর্বস্থলী, মেমারি ও জামালপুরের বেরুগ্রাম এলাকাতেও ব্যাপক হারে আলু উৎপাদন হয়। উৎপাদনের নিরিখে এই জেলা রাজ্যের অন্যতম প্রধান আলু ভাণ্ডার।

সহায়ক মূল্যের ঘোষণার অপেক্ষায় চাষিরা

চাষিদের আশঙ্কা, জ্যোতি আলু পুরোপুরি বাজারে উঠতে শুরু করার পরেও যদি দাম না বাড়ে, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে। তবে সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে সহায়ক মূল্যে আলু কেনা শুরু হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি, তবু সেই সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন হাজার হাজার কৃষক পরিবার।

অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক চাষপদ্ধতিতে পূর্ব বর্ধমান জেলায় আলুর ফলন বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। কিন্তু বাজারে দাম তলানিতে ঠেকায় চাষিদের মাথায় হাত। বিঘাপিছু ২৫-২৭ হাজার টাকা খরচের বিপরীতে বস্তাপিছু মাত্র ২২০-২৫০ টাকা দর মিলছে। সহায়ক মূল্যে সরকার ক্রয় শুরু করবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন কৃষকেরা।

Leave a comment