অযোধ্যায় NSG আঞ্চলিক হাব স্থাপনে ২৬ হেক্টর জমি বিনামূল্যে হস্তান্তরের অনুমোদন

উত্তরপ্রদেশ মন্ত্রিসভা অযোধ্যার মিলকিপুর তহসিলের পুরো লালখাঁ গ্রামে ২৬ হেক্টর অর্থাৎ প্রায় ৬৫ একর অনাবাদি জমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিনামূল্যে হস্তান্তরের অনুমোদন দিয়েছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১৬.৯০ কোটি টাকা এবং এখানে NSG-এর আঞ্চলিক হাব স্থাপন করা হবে।
অযোধ্যায় NSG আঞ্চলিক হাব স্থাপনে ২৬ হেক্টর জমি বিনামূল্যে হস্তান্তরের অনুমোদন
Photo Credit / Attribution: Google

অযোধ্যার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকার মিলকিপুর তহসিলের গ্রাম পুরো লালখাঁয় অবস্থিত ২৬ হেক্টর অর্থাৎ প্রায় ৬৫ একর অনাবাদি জমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুকূলে বিনামূল্যে হস্তান্তরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উত্তরপ্রদেশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই জমিতে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষী বা এনএসজির আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

শ্রী রাম জন্মভূমি মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর অযোধ্যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বিদেশ থেকেও বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও পর্যটক আসছেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের যাতায়াতের কারণে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অযোধ্যায় এনএসজির স্থায়ী আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মিলকিপুর তহসিলের পুরো লালখাঁ গ্রামে দেওয়া জমির পরিমাণ প্রায় ২৬ হেক্টর, যা প্রায় ৬৫ একরের সমান। উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, সরকারি এই জমির বাজারমূল্য প্রায় ১৬.৯০ কোটি টাকা। তবে জমিটি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিনামূল্যে হস্তান্তর করা হবে। জমিটি এনএসজির আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। রাজ্য সরকার এই জমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুকূলে দেবে। এরপর প্রস্তাবিত এনএসজি কেন্দ্রের নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রকল্পটির প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একটি ধাপ, আর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পরবর্তী নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ এরপর এগিয়ে যাবে।

অযোধ্যায় এনএসজির আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়ার সময় কমানো। গুরুতর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বা সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত ঘটনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত এনএসজি কমান্ডোর প্রয়োজন হতে পারে। আঞ্চলিক কেন্দ্র থাকলে এই ধরনের পরিস্থিতিতে বাহিনীকে তুলনামূলক কম সময়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পৌঁছাতে সহায়তা করতে পারে। সরকারের মতে, এর ফলে অযোধ্যা এবং আশপাশের এলাকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা যাবে।

অযোধ্যায় এর আগেও এনএসজি-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যান্ট এলাকার মীরনঘাটে প্রায় আট একর নাজুল জমি এনএসজি কেন্দ্রের জন্য আগে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা সামনে এসেছে। এবার মিলকিপুরে ৬৫ একর জমিতে প্রস্তাবিত আঞ্চলিক হাব এই নিরাপত্তা পরিকাঠামোকে আরও বিস্তৃত করবে।

রাম মন্দির নির্মাণ এবং প্রাণ প্রতিষ্ঠার পর অযোধ্যার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে একাধিক পর্যায়ে কাজ করা হয়েছে। মন্দির চত্বরের পাশাপাশি শহরে আসা বিপুল সংখ্যক ভক্ত, প্রধান ধর্মীয় স্থান, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে। এনএসজির আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপন এই বিস্তৃত নিরাপত্তা কাঠামোরই অংশ হবে।

এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু অযোধ্যায় সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। আঞ্চলিক হাব থাকার ফলে প্রয়োজনে আশপাশের সংবেদনশীল এলাকাতেও এনএসজির দ্রুত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সহায়তা হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এনএসজির মোতায়েন এবং অভিযান সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল ও সক্ষম সংস্থাগুলির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। উপলব্ধ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমিটি শুধুমাত্র প্রস্তাবিত এনএসজি আঞ্চলিক কেন্দ্রের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করতে হবে। কিছু প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি ব্যবহার না হলে অথবা ভবিষ্যতে জমিটির প্রয়োজন শেষ হয়ে গেলে সেটি রাজ্য সরকারকে ফেরত দেওয়ার শর্ত রাখা হয়েছে।

অযোধ্যায় এনএসজির আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের পর এখানে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কেন্দ্রটির নির্মাণ, সেখানে মোতায়েন কর্মীর সংখ্যা, পরিচালন ক্ষমতা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার বিষয়ে চূড়ান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকল্পটি এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সামনে আসবে। ফলে আপাতত মন্ত্রিসভা অনুমোদিত জমি এবং আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টিই প্রকল্পটির প্রধান অনুমোদিত ধাপ।

অযোধ্যায় আসা ভক্ত ও পর্যটকদের সংখ্যা বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই একাধিক সংস্থার সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ, প্রশাসন এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা নিজেদের দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করছে। এনএসজির আঞ্চলিক হাব স্থাপিত হলে বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় স্তরের সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী বাহিনীর পৌঁছনোর জন্যও একটি উন্নত ভিত্তি তৈরি হবে।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর অযোধ্যার নিরাপত্তা কাঠামোয় আরও একটি ব্যবস্থা যুক্ত হতে চলেছে। ৬৫ একর জমি বিনামূল্যে হস্তান্তরের নির্ধারিত উদ্দেশ্য হলো অযোধ্যায় একটি স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা সক্ষমতা গড়ে তোলা। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর পরবর্তী পর্যায়ে জমির আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর এবং প্রকল্প-সংক্রান্ত নির্মাণ ও প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে যাবে।

মিলকিপুরের পুরো লালখাঁ গ্রামে প্রায় ২৬ হেক্টর অর্থাৎ ৬৫ একর অনাবাদি জমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে বিনামূল্যে হস্তান্তর করা হবে এবং এর নির্ধারিত উদ্দেশ্য হলো এনএসজির আঞ্চলিক হাব স্থাপন। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১৬.৯০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদনের পর অযোধ্যায় এনএসজির আঞ্চলিক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া এখন পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a comment