ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা তিনটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয় এবং এটিকে দেশের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং নিয়োগ প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রিলিমস, মেইন এবং ইন্টারভিউ পেরোনোর পর প্রার্থীরা র্যাঙ্কের ভিত্তিতে আইএএস সহ অন্যান্য পরিষেবাগুলিতে নিয়োগ পান। নির্বাচিত কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ মুসৌরিতে অবস্থিত এলবিএসএনএএ (LBSNAA)-তে হয়।
IAS পরীক্ষার প্রক্রিয়া: ইউপিএসসি প্রতি বছর দেশজুড়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার আয়োজন করে, যেখানে লক্ষ লক্ষ প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। নির্বাচন তিনটি ধাপ—প্রিলিমস, মেইন এবং ইন্টারভিউয়ের—ভিত্তিতে হয়। প্রিলিমস একটি স্ক্রিনিং টেস্ট, যখন মেইনকে সবচেয়ে কঠিন মনে করা হয় এবং ইন্টারভিউতে ব্যক্তিত্বের যাচাই করা হয়। ২১ বছরের বেশি বয়সী এবং স্নাতক যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীরা আবেদন করতে পারেন। চূড়ান্ত নির্বাচনের পর কর্মকর্তারা মুসৌরির LBSNAA-তে প্রশিক্ষণ নিয়ে তাঁদের প্রশাসনিক কর্মজীবনের শুরু করেন।
কীভাবে শুরু হয় ইউপিএসসি পরীক্ষা?
আইএএস হওয়ার জন্য প্রথমে প্রার্থীকে ইউপিএসসির সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই পরীক্ষা প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এবং লক্ষ লক্ষ প্রার্থী এতে অংশ নেন। কমিশন সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে তিনটি ধাপে ভাগ করে, যার মধ্যে প্রিলিমস, মেইন এবং ইন্টারভিউ অন্তর্ভুক্ত।
প্রিলিমস একটি স্ক্রিনিং টেস্ট, যেখানে দুটি পেপার থাকে। জেনারেল স্টাডিজ পেপার মেধা তালিকা নির্ধারণ করে, যখন সিএসএটি (CSAT) শুধুমাত্র কোয়ালিফাইং হয়। প্রিলিমস পাশ করা প্রার্থীদের মেইন পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়।

কেন মেইন পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন?
মেইন পরীক্ষা সম্পূর্ণ লিখিত হয় এবং এটিকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং অংশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এতে মোট নয়টি পেপার থাকে, যার মধ্যে সাতটি পেপার মেধা তালিকার জন্য গণনা করা হয়। এই পেপারগুলির মধ্যে চারটি জেনারেল স্টাডিজ, দুটি অপশনাল পেপার এবং একটি প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত।
মেইন পরীক্ষা মোট ১৭৫০ নম্বরের হয়। এতে প্রার্থীর গভীর বোধগম্যতা, লেখার ক্ষমতা এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞানের পরীক্ষা করা হয়। ঐচ্ছিক বিষয় প্রার্থী তাঁর আগ্রহ এবং প্রস্তুতির ভিত্তিতে নির্বাচন করেন।
ইন্টারভিউতে যাচাই করা হয় ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনা
মেইন পরীক্ষার পর শেষ ধাপটি হল ইন্টারভিউ, যাকে পার্সোনালিটি টেস্টও বলা হয়। এটি ২৭৫ নম্বরের হয় এবং এতে প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং যোগাযোগ দক্ষতা যাচাই করা হয়। এখানে বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন কম এবং বোধগম্যতা ও আচরণের ভিত্তিতে প্রশ্ন বেশি জিজ্ঞাসা করা হয়।
মেইন এবং ইন্টারভিউয়ের নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হয়। সর্বোচ্চ র্যাঙ্ক প্রাপ্তরা আইএএস পরিষেবা পান। এই কারণেই এই পরীক্ষা ভারতে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক হিসাবে বিবেচিত হয়।
আইএএস হওয়ার জন্য যোগ্যতা ও বয়স সীমা
ইউপিএসসি আইএএস পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম বয়স ২১ বছর নির্ধারণ করেছে। সাধারণ বিভাগের জন্য সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর। ওবিসি (OBC) প্রার্থীদের জন্য ৩৫ বছর এবং এসসি/এসটি (SC/ST) প্রার্থীদের জন্য ৩৭ বছর পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। দিব্যাঙ্গ (শারীরিকভাবে অক্ষম) প্রার্থীদের অতিরিক্ত বয়সের ছাড় প্রদান করা হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বললে, কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়া আবশ্যক। কলা, বিজ্ঞান বা বাণিজ্য—যে কোনো স্ট্রিমের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।
আইএএস কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোথায় হয়?
ইউপিএসসি-তে নির্বাচিত আইএএস কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ মুসৌরিতে অবস্থিত লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (LBSNAA)-তে হয়। এখানে কর্মকর্তাদের প্রশাসন, আইন, নীতি এবং ফিল্ড ওয়ার্ক সম্পর্কিত গভীর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হওয়ার পর কর্মকর্তাকে কোনো জেলায় পোস্টিং দেওয়া হয়, যেখান থেকে তাঁর প্রশাসনিক কর্মজীবন শুরু হয়। এই ধাপেই প্রার্থীরা প্রকৃতপক্ষে জনসেবার মূল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।








