মার্কিন সিনেটে ইরানবিষয়ক সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার প্রস্তাব ৪৯-৫০ ভোটে খারিজ

মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ৪৯-৫০ ভোটে খারিজ হয়েছে। এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার প্রস্তাব ৪৯-৫০ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। প্রস্তাবটি বাতিল হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পেয়েছেন। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে এবং উভয় পক্ষই ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আগে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে আনা প্রস্তাবটি মার্কিন সিনেটে ৪৯-৫০ ভোটে খারিজ হয়। পেনসিলভানিয়ার রিপাবলিকান সিনেটর ডেভ ম্যাককরমিক ভোটগ্রহণে অংশ নেননি। প্রস্তাবটি পাস না হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক স্বস্তি পেলেও বিরোধী আইনপ্রণেতারা সামরিক পদক্ষেপের ওপর কংগ্রেসের তদারকির দাবি অব্যাহত রেখেছেন।

প্রস্তাবটির উদ্দেশ্য ছিল, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে কংগ্রেসের অনুমতি নিতে হবে তা নিশ্চিত করা। প্রস্তাবটি পাস হলে প্রেসিডেন্ট এককভাবে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। তবে সিনেটে পর্যাপ্ত সমর্থন না পাওয়ায় বিলটি আপাতত পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতেই আটকে রয়েছে। এটি পুনরায় পূর্ণাঙ্গ সিনেটে উত্থাপন করতে সমর্থকদের নতুন প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী বিমান হামলার পর ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ধারাবাহিকভাবে দাবি জানিয়ে আসছেন যে যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা উচিত। তাদের বক্তব্য, সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের ভূমিকা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই সময় মিশরের একটি বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি জাহাজে আগুন লাগে, যার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনী বন্দর আব্বাস, কিশ এবং কেশম দ্বীপসহ ইরানের একাধিক এলাকায় বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে যে তারা কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কুয়েতে একটি চীনা কোম্পানির ভবনে হামলায় একজন কর্মীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এদিকে লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব, যাতে ১৪টি দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে এবং মার্কিন হামলার জবাব শিগগিরই দেওয়া হবে। একই সময়ে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কেশম দ্বীপে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বলেন, এ ঘটনার মূল্য যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে।

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে পতন দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ১.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুড ১.৮ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮২.০৯ ডলারে নেমে এসেছে। তবে পুরো জুলাই মাসে তেলের দামে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

Leave a comment