মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে ইরান। রাজধানী তেহরান-এ একাধিক কৌশলগত স্থানে হামলার ঘটনায় প্রাণহানির খবর মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে চিনের তৈরি HQ-9B এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, যা ইরানের আকাশসীমা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই দাবি বিশ্লেষকদের একাংশের।
যৌথ হামলায় তেহরানে ধ্বংসযজ্ঞ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল-এর যৌথ বিমান অভিযানে তেহরানে একাধিক সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির কথাও স্বীকার করেছে। এই হামলার মুখে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি বলেই অভিযোগ উঠেছে।
HQ-9B: কাগজে শক্তিশালী, ময়দানে প্রশ্ন
HQ-9B হল চিনের অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (SAM) সিস্টেম, যা তৈরি করেছে China Aerospace Science and Industry Corporation। বেজিংয়ের দাবি, প্রায় ২০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে শত্রু বিমান, ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতে সক্ষম এই ব্যবস্থা। কিন্তু ইরানের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা সেই দাবির সঙ্গে বাস্তবের ফারাক স্পষ্ট করেছে বলেই মত সামরিক বিশ্লেষকদের।
পাকিস্তানের পর ইরানেও বিতর্ক
২০২৫ সালের ভারত-পাক সংঘর্ষের সময় ‘অপারেশন সিঁদুর’ প্রতিরোধ নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানের ঘটনাকে অনেকে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির তরফে আনুষ্ঠানিক প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
রুশ S-300 নিয়েও অতীত অভিজ্ঞতা
এর আগেও ২০২৫ সালের এক অভিযানে রাশিয়ার তৈরি S-300PMU-2 সিস্টেম ইরানকে প্রত্যাশিত সুরক্ষা দিতে পারেনি বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা হয়েছিল। ফলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল ও প্রযুক্তি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে।
বেজিংয়ের নীরবতা, আন্তর্জাতিক জল্পনা
চিন সরকার এখনও প্রকাশ্যে HQ-9B–এর কার্যকারিতা নিয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে স্টেলথ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সাইবার সক্ষমতা— সব মিলিয়েই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাফল্য নির্ধারিত হয়। একক কোনও সিস্টেম দিয়ে জটিল বহুমুখী হামলা প্রতিহত করা কঠিন।
মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হামলার পর ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। চিনের তৈরি HQ-9B এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি বলেই দাবি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলের। এর জেরে বেজিংয়ের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।








