ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। এবার সেই প্রেক্ষাপটেই সামনে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর। রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা চেয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের দাবি, এই ধরনের একটি আর্থিক ব্যবস্থা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে মজবুত করতে এবং অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে।
ইরান-আমেরিকা সংঘাতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনার ক্ষেত্রে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে ঘিরে নানা মহলে বিভিন্ন বিশ্লেষণও সামনে আসে।এবার রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই কূটনৈতিক ভূমিকার পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে পাকিস্তান। যদিও এই আর্থিক সহায়তা সরাসরি মধ্যস্থতার ‘পুরস্কার’ হিসেবে দেওয়া হবে—এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য নেই।
১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা কেন চাইছে ইসলামাবাদ?
রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি কারেন্সি সাপোর্ট ফ্যাসিলিটির আবেদন করেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং পাকিস্তানি মুদ্রার ওপর চাপ কমানো।এই ধরনের আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের আর্থিক অবস্থান কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। একইসঙ্গে বিদেশি মুদ্রার ঘাটতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইসলামাবাদ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
IMF-এর ঋণ কর্মসূচির মধ্যেই নতুন চাহিদা
বর্তমানে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF-এর আর্থিক কর্মসূচির আওতায় অর্থনৈতিক সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে কর ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো একাধিক পদক্ষেপ রয়েছে।তবে দেশের অর্থনীতি এখনও বৈদেশিক সহায়তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঋণ কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা পেলে ইসলামাবাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কী ধরনের সুবিধা চেয়েছে পাকিস্তান?
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান একটি দ্বিপাক্ষিক বিনিময় স্থিতিশীলতা সহায়তা ব্যবস্থার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও দেশের মুদ্রা ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করা যেতে পারে।তবে এই প্রস্তাব বাস্তবে অনুমোদিত হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথাও জানা যায়নি।
পাকিস্তানের অর্থনীতিতে এর প্রভাব কী হতে পারে?
যদি এই আর্থিক সহায়তা অনুমোদিত হয়, তাহলে পাকিস্তানের জন্য তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়লে আমদানি ব্যয় মেটানো এবং আন্তর্জাতিক ঋণের চাপ সামলানো কিছুটা সহজ হতে পারে। একইসঙ্গে পাকিস্তানি রুপির ওপর থাকা চাপও কমতে পারে।অন্যদিকে, এর ফলে IMF এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর পাকিস্তানের নির্ভরতা কতটা কমবে, সেটি নির্ভর করবে সহায়তার শর্ত ও বাস্তবায়নের ওপর।
চিন ও সৌদির ওপর নির্ভরতা কতটা?
পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহায়তা, ঋণ এবং মিত্র দেশগুলির আর্থিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। চিন ও সৌদি আরবের মতো দেশ থেকেও ইসলামাবাদ বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তা ও আমানতের সুবিধা পেয়েছে।তাই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নতুন কোনও আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আর্থিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তার তাৎপর্য থাকতে পারে।
ইরান-আমেরিকা সংঘাতের সময় মধ্যস্থতায় ভূমিকা রাখার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা চেয়েছে পাকিস্তান। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামাবাদ ১০ বিলিয়ন ডলারের একটি কারেন্সি সাপোর্ট বা বিনিময় স্থিতিশীলতা সহায়তা সুবিধার আবেদন করেছে। এই অর্থ পেলে পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি পাকিস্তানি রুপির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে।











