উত্তরাখণ্ডের পৌরি জেলায় রাজ্যের প্রথম ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (এনসিসি) প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের জন্য প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শিগগিরই শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের অনুমোদিত এই একাডেমি পৌরি জেলার গণিয়া গ্রামে (দেওয়ার এলাকা) প্রায় ৪.৯৫ হেক্টর জমিতে নির্মিত হবে। প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদনের পর এখন সরকারি আদেশ জারির প্রস্তুতি চলছে। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।
প্রকল্পটি ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি (আইএমএ)-এর আদলে গড়ে তোলা হবে, যাতে রাজ্যের এনসিসি ক্যাডেটরা আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এখন দ্রুত এগোচ্ছে।

প্রকল্পটির জন্য শুরুতে প্রায় ৭৫.৯৮ কোটি টাকার বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) প্রস্তুত করা হয়েছিল। পরে সরকারের নির্দেশে পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে সংশোধিত ডিপিআর ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তুত করা হয়। সংশোধিত প্রস্তাব ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন পেয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি প্রকল্পের প্রথম কিস্তি হিসেবে ১ কোটি টাকার আর্থিক অনুমোদনও দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি আদেশ জারি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করে নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
নতুন এনসিসি একাডেমিতে একসঙ্গে ৪০০ জন ক্যাডেটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা থাকবে। এর মধ্যে ২৮০ জন ছাত্র এবং ১২০ জন ছাত্রী থাকবে। ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক ভবন, কর্মকর্তাদের আবাসিক ব্লক, ছাত্র ও ছাত্রীদের হোস্টেল, মেস, দপ্তর, প্রশিক্ষণ সুবিধা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ভবন নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পে পরিবেশ সংরক্ষণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য ১ লক্ষ লিটার ধারণক্ষমতার রেইনওয়াটার হারভেস্টিং ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সবুজ এলাকা উন্নয়ন, ফুলের বাগান তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এই প্রকল্পটি উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতের ড্রিম প্রজেক্টগুলোর একটি ছিল। তিনি ২০১৯ সালে এই একাডেমির ঘোষণা করেছিলেন। প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে উত্তরাখণ্ডের এনসিসি ক্যাডেটরা রাজ্যের মধ্যেই উচ্চমানের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে এবং প্রতিরক্ষা পরিষেবায় ক্যারিয়ারের প্রস্তুতি নেওয়া যুবকরাও এর সুবিধা পাবে।










