১৫ বছরেই কোটিপতি বৈভব! অ্যাকাউন্টে কোটি টাকা থাকলেও কি নিজের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারেন? ইনকাম ট্যাক্স দেওয়ার নিয়ম কী বলছে?

আইপিএল তারকা বৈভব সূর্যবংশী কোটি টাকার মালিক হলেও বয়স ১৮ না হওয়ায় কি নিজের ইচ্ছামতো টাকা খরচ করতে পারেন? মাইনরদের আয়, সম্পত্তি ও ইনকাম ট্যাক্স সংক্রান্ত নিয়ম জেনে নিন।

ক্রিকেট মাঠে ঝড় তুলে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন বৈভব সূর্যবংশী। অল্প বয়সেই আইপিএলের মতো মঞ্চে সুযোগ পেয়ে কোটি টাকার চুক্তি অর্জন করেছেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটার। কিন্তু বয়স যখন এখনও ১৮ পেরোয়নি, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—নিজের উপার্জিত কোটি কোটি টাকা কি তিনি নিজের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারেন? আর এই বিপুল আয়ের জন্য কি তাঁকে আয়করও দিতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ভারতের আইন ও কর ব্যবস্থার নিয়মে।

আইপিএলের সৌজন্যে কোটি টাকার মালিক

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বৈভব সূর্যবংশী। তাঁর ব্যাটিং প্রতিভা ইতিমধ্যেই বিশেষজ্ঞ ও সমর্থকদের নজর কেড়েছে। আইপিএলে সুযোগ পাওয়ার পাশাপাশি কোটি টাকার চুক্তি তাঁকে দেশের অন্যতম ধনী কিশোর ক্রিকেটারের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।এই বিপুল অঙ্কের অর্থ উপার্জনের পরই সামনে এসেছে অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়দের আর্থিক অধিকার নিয়ে নানা প্রশ্ন।

টাকার মালিক কে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও মাইনর বা অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড় নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে যে অর্থ উপার্জন করেন, সেই অর্থের প্রকৃত মালিক তিনিই।

অর্থাৎ আইপিএল, বিজ্ঞাপন, স্পনসরশিপ বা অন্যান্য ক্রিকেট-সংক্রান্ত চুক্তি থেকে বৈভব যে অর্থ পাচ্ছেন, তা আইনগতভাবে তাঁরই সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হবে।

তাহলে নিজের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারবেন না কেন?

এখানেই আসে বয়সজনিত আইনি সীমাবদ্ধতা।

ভারতের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে থাকা কোনও ব্যক্তি অপ্রাপ্তবয়স্ক বা মাইনর হিসেবে গণ্য হন। ফলে তিনি নিজের সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনার অধিকার পান না।সাধারণত বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক তাঁর হয়ে অর্থ পরিচালনা করেন। কোথায় বিনিয়োগ হবে, কতটা খরচ হবে বা ভবিষ্যতের জন্য কতটা সঞ্চয় করা হবে—এসব সিদ্ধান্ত অভিভাবকরাই নেন।

কোথায় রাখা হয় এই অর্থ?

বড় অঙ্কের অর্থ সাধারণত মাইনর সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট অথবা অন্যান্য নিরাপদ বিনিয়োগ প্রকল্পে রাখা হয়।

এছাড়াও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে—

মিউচুয়াল ফান্ড

সরকারি বন্ড

শিক্ষা তহবিল

দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্প

আইনসম্মত সম্পত্তি বিনিয়োগ

এর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ বিনিয়োগ করা যেতে পারে।

এর ফলে সম্পদ সুরক্ষিত থাকার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

ইনকাম ট্যাক্স কি দিতে হবে?

অনেকেরই ধারণা, বয়স কম হলে আয়কর দিতে হয় না। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইপিএল, বিজ্ঞাপন বা পেশাদার ক্রিকেট থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ করযোগ্য। ফলে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেও আয়কর আইনের নিয়ম প্রযোজ্য হয়।

যদি আয়ের পরিমাণ নির্ধারিত করসীমার উপরে থাকে, তাহলে—

প্যান কার্ড থাকা প্রয়োজন

আয়কর রিটার্ন (ITR) জমা দিতে হয়

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর পরিশোধ করতে হয়

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়

অর্থাৎ বয়স কম হলেও আয় বেশি হলে করের দায় এড়ানো যায় না।

চুক্তিতে সই করেন কে?

ভারতের চুক্তি আইন অনুযায়ী কোনও মাইনর ব্যক্তি সাধারণত নিজে থেকে বাধ্যতামূলক বাণিজ্যিক চুক্তি করতে পারেন না।

সেই কারণে আইপিএল চুক্তি, ব্র্যান্ড এন্ডোর্সমেন্ট বা অন্যান্য বাণিজ্যিক চুক্তিতে সাধারণত তাঁর বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবক তাঁর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন।

এটি অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড়ের স্বার্থ ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখার জন্যই করা হয়।

কবে সম্পূর্ণ অধিকার পাবেন বৈভব?

বর্তমানে বৈভবের উপার্জিত অর্থ তাঁর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ক্রিকেট সরঞ্জাম, ভ্রমণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।তবে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তিনি সেই অর্থের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাবেন না। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরই নিজের সম্পদ, বিনিয়োগ এবং উপার্জনের উপর সম্পূর্ণ আইনগত অধিকার লাভ করবেন।

আইপিএলে খেলে অল্প বয়সেই কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী। তবে বয়স মাত্র ১৫ হওয়ায় সেই অর্থের উপর তাঁর আইনগত নিয়ন্ত্রণ কতটা, তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, টাকা তাঁর হলেও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার কারণে অর্থ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন অভিভাবকরা। পাশাপাশি এই আয় করযোগ্য হওয়ায় আয়কর সংক্রান্ত নিয়মও প্রযোজ্য হয়।

Leave a comment