বিক্রমশিলা সেতুর মেরামতে ফের বিলম্বের আশঙ্কা, ১৪ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয়
ভাগলপুরের বিক্রমশিলা সেতুর মেরামতের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়া নিয়ে ফের সংশয় তৈরি হয়েছে। আগামী ১৪ জানুয়ারির মধ্যে মেরামত সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এখনও চারটি অংশের মধ্যে দুটিতে বিম কাটিংয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নতুন গার্ডার বসানোর কাজ শুরু হবে, যার জন্য আনুমানিক ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে সেতুতে পুনরায় যান চলাচল শুরুর অপেক্ষায় থাকা সাধারণ মানুষকে আরও কিছুদিন দুর্ভোগের মধ্যে থাকতে হতে পারে।
বিক্রমশিলা সেতুকে ভাগলপুরের লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সেতু ভাগলপুরের সঙ্গে নবগছিয়া এবং সীমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ স্থাপন করে। পাশাপাশি উত্তর বিহার থেকে যাতায়াতকারী যানবাহনের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। সেতু মেরামতের কারণে যান চলাচল বন্ধ থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে পড়ুয়া ও ব্যবসায়ীদের গন্তব্যে পৌঁছতে বিকল্প রাস্তার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি মেরামতের জন্য চারটি পৃথক ভাগে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমানে এর মধ্যে দুটিতে বিম কাটিংয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়ায় পুরনো ও ক্ষতিগ্রস্ত বিম কেটে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, যাতে সেগুলির জায়গায় নতুন গার্ডার বসানো যায়। সেতুর কাঠামোগত মজবুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রযুক্তিগত নজরদারির মধ্যে মেরামতের কাজ চলছে।
বিম কাটিংয়ের কাজ শেষ হলে নতুন গার্ডার বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই কাজে আনুমানিক ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। গার্ডার বসানোর পরও সেতুতে যান চলাচল শুরু করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সংযোগস্থল মজবুত করা এবং সেতুর নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষা। সব কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় সময়ের কথা বিবেচনা করে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে মেরামত সম্পূর্ণ করা ক্রমশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।
বিক্রমশিলা সেতু বন্ধ থাকার প্রভাব শুধু ভাগলপুরেই সীমাবদ্ধ নেই, আশপাশের জেলার বাসিন্দারাও সমস্যায় পড়ছেন। নবগছিয়া ও পূর্ণিয়ার দিকে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। বিকল্প রাস্তায় যানবাহনের চাপ বাড়ায় বিভিন্ন জায়গায় যানজটের সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহনগুলিকে বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। পণ্য পরিবহণে অতিরিক্ত সময় লাগার পাশাপাশি পরিবহণ খরচও বাড়ছে।
সেতু বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রতিদিনের যাতায়াতও প্রভাবিত হচ্ছে। প্রতিদিন ভাগলপুরে যাতায়াতকারী মানুষদের নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে। রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহণের ক্ষেত্রেও বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত সময় লাগছে।
এখন মেরামতের কাজের গতি এবং সেতু পুনরায় চালু করার নির্ধারিত সময়সীমার দিকে নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের। বিম কাটিংয়ের পর গার্ডার বসাতে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলে জানা যাওয়ায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয় আরও বেড়েছে। তবে সেতুর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সতর্কতার সঙ্গে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, নির্মাণকাজের গতি বাড়ানো হবে, যাতে যত দ্রুত সম্ভব বিক্রমশিলা সেতুতে যান চলাচল পুনরায় চালু করা যায়।







