২৪ জুলাই দুর্বল GIFT Nifty ও বৈশ্বিক নেতিবাচক সংকেতে চাপের মুখে থাকতে পারে ভারতীয় শেয়ারবাজার

২৪ জুলাইয়ের ট্রেডিং সেশনের আগে দুর্বল GIFT Nifty, এশীয় ও মার্কিন বাজারের পতন, Brent crude-এর মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং Q1 FY27 ফলাফলকে ঘিরে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে।

২৪ জুলাই ভারতীয় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। দুর্বল GIFT Nifty এবং বৈশ্বিক বাজার থেকে প্রাপ্ত নেতিবাচক সংকেতের প্রেক্ষাপটে দিনের লেনদেন বিনিয়োগকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জপূর্ণ হতে পারে।

শুক্রবার, ২৪ জুলাইয়ের ট্রেডিং সেশনের আগে প্রাপ্ত বৈশ্বিক সূচকগুলো বাজারে সতর্কতার পরিবেশ তৈরি করেছে। দুর্বল GIFT Nifty, এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোর পতন, মার্কিন শেয়ারবাজারে বিক্রি, অপরিশোধিত তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বাজারে ঝুঁকিবিমুখ মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে।

তবে এসব সংকেতের ভিত্তিতে শেয়ারবাজারে নিশ্চিতভাবে বড় ধরনের ধস নামবে—এমন পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় বেঞ্চমার্ক সূচক সেনসেক্স ও নিফটিতে দিনের শুরুতে চাপ দেখা যেতে পারে। ২৪ জুলাই সকালে GIFT Nifty দুর্বল অবস্থানে লেনদেন করছিল। এর আগে টানা চতুর্থ সেশনে পতনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় বাজার বন্ধ হয়েছিল।

ভারতীয় শেয়ারবাজারের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আসে GIFT Nifty থেকে। প্রাথমিক লেনদেনে GIFT Nifty প্রায় 23,700 স্তরের আশপাশে লেনদেন করছিল, যা আগের ক্লোজিং স্তরের তুলনায় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। এর ফলে শুক্রবার দেশীয় বাজারে গ্যাপ-ডাউন বা দুর্বল সূচনার সম্ভাবনা বেড়েছে। আগের সেশনে সেনসেক্স প্রায় 364 পয়েন্ট কমে 76,391 স্তরে বন্ধ হয়, আর নিফটি 50 প্রায় 127 পয়েন্ট পতনের সঙ্গে সেশন শেষ করে। দুই প্রধান সূচকের টানা চতুর্থ দিনের পতন বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ভারতীয় বাজারের জন্য দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আসে এশিয়া থেকে। শুক্রবার প্রাথমিক লেনদেনে জাপানের Nikkei 225 প্রায় 2.46 শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার KOSPI প্রায় 3.04 শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার ASX 200 প্রায় 0.57 শতাংশ নিম্নমুখী ছিল। অন্যদিকে, চীনের Shanghai Composite প্রায় স্থিতিশীল থেকে সামান্য নিম্নমুখী অবস্থায় লেনদেন করছিল। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিক্রি এশীয় বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করেছে।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংকেত এসেছে মার্কিন শেয়ারবাজার থেকে। বৃহস্পতিবারের লেনদেনে Dow Jones Industrial Average প্রায় 0.97 শতাংশ, S&P 500 প্রায় 1.21 শতাংশ এবং Nasdaq Composite প্রায় 2.15 শতাংশ কমে বন্ধ হয়। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের দুর্বলতা বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। Alphabet-এর শেয়ার প্রায় 7 শতাংশ এবং Tesla-এর শেয়ার প্রায় 14 শতাংশ কমে যায়। এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য রিটার্ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ সংকেত এসেছে অপরিশোধিত তেলের বাজার থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে Brent crude প্রতি ব্যারেল 100 মার্কিন ডলারের ওপরে উঠে যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সেশনেই Brent-এর দাম প্রায় 7 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দুই মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায়।

অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য ভারতের মতো বড় তেল আমদানিকারক দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘ সময় তেলের দাম উঁচু থাকলে মূল্যস্ফীতি, চলতি হিসাব এবং কোম্পানিগুলোর ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ সংকেত এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। অঞ্চলে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে সম্ভাব্য বিঘ্ন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে মূল্যস্ফীতি আবারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে বৈশ্বিক সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যা শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

২৪ জুলাই ভারতীয় বাজারে একাধিক কোম্পানির ত্রৈমাসিক ফলাফলও বিনিয়োগকারীদের নজরে থাকবে। বিভিন্ন কোম্পানির Q1 FY27 ফলাফল, ব্যবস্থাপনার মন্তব্য এবং পরবর্তী ব্যবসায়িক আউটলুকের ওপর বাজারের দৃষ্টি থাকবে। পাশাপাশি বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কার্যক্রম এবং অপরিশোধিত তেলের দামও বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

Leave a comment