৯ ও ১০ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্য বার কাউন্সিলের নির্বাচন। তার আগে এক ভোট, এক দল, কিন্তু তিন তালিকা— এই সমীকরণেই শাসকদলপন্থী আইনজীবীদের অন্দরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড়। বারবার তালিকা বদলের পর শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হলেও প্রশ্ন উঠছে প্রার্থী বাছাইয়ের ধরন নিয়ে।
তিন তালিকা, এক লক্ষ্য— ঐক্যের বার্তা?
প্রথমে একটি তালিকা, তারপর সংশোধিত তালিকা, এবং সবশেষে মিলিত তালিকা— এভাবেই রাজ্য বার কাউন্সিল নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তৃণমূলপন্থী শিবির। শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে একাধিক পক্ষের প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে বলে দাবি দলীয় সূত্রের।
বর্ষীয়ানদের দাপট, উঠছে ‘বৃদ্ধতন্ত্র’-এর প্রশ্ন
চূড়ান্ত তালিকায় ৫-৬ জন তরুণ মুখ জায়গা পেলেও প্রথম সারিতে রয়েছেন বর্ষীয়ানরাই। ১৯৮৮ সাল থেকে বার কাউন্সিল ভোটে প্রার্থী হওয়া এবং ১৯৯৪ সাল থেকে সর্বভারতীয় বার কাউন্সিলের সদস্য অশোক দেব আবারও প্রার্থী। ২০১৬ সাল থেকে তিনি রাজ্য বার কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন। দলীয় অন্দরের একাংশের মতে, চেয়ারপার্সন পদে মুখ্যমন্ত্রীর আস্থাভাজন মুখ না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।
হাইকোর্ট ক্লাবের ফলের ছায়া
কয়েক মাস আগে হাইকোর্ট ক্লাবের নির্বাচনে ক্ষমতা বিজেপিপন্থীদের হাতে চলে যাওয়ার পর থেকেই অস্বস্তি বেড়েছে শাসক শিবিরে। তার প্রভাব পড়েছে জেলা আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনেও। ইতিমধ্যেই ১৫টি আদালতে তৃণমূলপন্থীরা পরাজিত হয়েছেন। সর্বজনগ্রাহ্য প্রার্থী না দেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।
১৫ আসন ধরে রাখাই লক্ষ্য
২৩ আসনের রাজ্য বার কাউন্সিলে গতবার ১৫টি আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূলপন্থীরা। এ বারও সেই ১৫ আসন ধরে রাখাই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, হাইকোর্ট ক্লাবের সাফল্যে উজ্জীবিত বিজেপি শিবির রাজ্য বার কাউন্সিল দখলে মরিয়া। গতবার তাদের দখলে ছিল তিনটি আসন।বামপন্থী আইনজীবীদের সংগঠনও পুরনো ও নতুন মুখের মিশেলে লড়াইয়ে নেমেছে বেশি আসন জয়ের লক্ষ্যে। রয়েছেন কংগ্রেসপন্থীরাও।
ভোটের আগে কৌশলগত সমীকরণ
১৬ জানুয়ারি প্রথম তালিকা প্রকাশ করেন তৃণমূলের লিগাল সেলের চেয়ারপার্সন Chandrima Bhattacharya। পরে সংশোধিত তালিকা আসে Moloy Ghatak-এর হাত ধরে। সবশেষে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় স্বাক্ষর করেন Subrata Bakshi।একাংশ পৃথক প্যানেল দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেও শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ তালিকাতেই সমাধান খোঁজা হয়েছে।
রাজ্য বার কাউন্সিলের ১২তম নির্বাচনের আগে একাধিক তালিকা প্রকাশ করেও শেষ পর্যন্ত ঐক্যের বার্তা দিল তৃণমূল শিবির। তবে প্রার্থী তালিকায় বর্ষীয়ান মুখের আধিপত্য ঘিরে উঠছে ‘বৃদ্ধতন্ত্র’-এর প্রশ্ন। ইতিমধ্যেই ১৫টি বার অ্যাসোসিয়েশন ভোটে হার শাসকপন্থীদের।









