পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের জন্য মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। দুই কেন্দ্রের সব মিলিয়ে ৫৯৭টি ভোটকেন্দ্রেই ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৬ অক্টোবর ২০২৬। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলির প্রযুক্তিগত নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই বিধানসভা এলাকার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে নজরদারির আওতায় থাকবে।
নন্দীগ্রামে মোট ২৮২টি এবং রেজিনগরে ৩১৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ফলে দুই কেন্দ্রে মোট ৫৯৭টি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের তহবিল ও মোতায়েন পরিকল্পনা অনুযায়ী নন্দীগ্রামে রেজিনগরের তুলনায় তিন কোম্পানি বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। নন্দীগ্রামে থাকবে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি।
একটি কোম্পানিতে সাধারণত প্রায় ১০০ জন আধিকারিক ও জওয়ান থাকেন। সেই হিসাবে দুই বিধানসভা এলাকায় ভোটের সময় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় নিরাপত্তাকর্মী উপস্থিত থাকবেন। তবে একটি কোম্পানিতে প্রকৃত সদস্যসংখ্যা বাহিনী ও মোতায়েনের ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে।
ভোটকেন্দ্র ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ভোটারদের শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট পরিচালনায় যুক্ত থাকবে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর শূন্য হয়। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর আসন থেকেও নির্বাচনে লড়ে দুই আসনেই জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসন থেকে পদত্যাগ করেন। এর ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর বিধানসভা আসনটিও একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার কারণে শূন্য হয়। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—দুই আসন থেকেই নির্বাচনে লড়েছিলেন এবং দুই আসনেই জয়ী হয়েছিলেন।
পরে তিনি নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর বিধানসভা আসন থেকে পদত্যাগ করেন। এর পর রেজিনগরেও উপনির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৬ অক্টোবর সেখানে ভোটাররা নতুন বিধায়ক নির্বাচন করবেন।
নির্বাচন কমিশন দুই বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটপ্রক্রিয়া নজরদারির জন্য পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে।
রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হরি লাল চৌহানকে এবং নন্দীগ্রামে এই দায়িত্ব পেয়েছেন এমবি বোরলিংগাইয়া। সাধারণ পর্যবেক্ষক হিসেবে নন্দীগ্রামে সন্তোষ দাস এবং রেজিনগরে হর্ষল পাঞ্চোলিকে নিয়োগ করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের দায়িত্বের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলির ওপর নজর রাখা থাকবে।
নন্দীগ্রামের ২৮২টি এবং রেজিনগরের ৩১৫টি ভোটকেন্দ্রই ওয়েবকাস্টিং ব্যবস্থার আওতায় থাকবে। অর্থাৎ দুই বিধানসভা এলাকার কোনও ভোটকেন্দ্র এই প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবস্থার বাইরে থাকবে না।
ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রগুলিতে চলা প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি করা যাবে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সব বুথকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন।
উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করা হবে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন।
এর পর দুই আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা স্পষ্ট হবে। ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণের পর ৯ অক্টোবর ভোটগণনা করে ফল ঘোষণা করা হবে।
তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রাম থেকে সঞ্চিতা প্রধান এবং রেজিনগর থেকে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করেছে। কংগ্রেস ও বামফ্রন্টও তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলি তাদের প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে।
নন্দীগ্রামে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি দুই কেন্দ্রে মোট ৫৯৭টি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা এবং ভোটকর্মীদের দায়িত্ব চূড়ান্ত করার কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণ এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনার মাধ্যমে দুই আসনের উপনির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নন্দীগ্রামের ২৮২টি ও রেজিনগরের ৩১৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ভোট পরিচালনার প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।









