ট্রেন ভ্রমণকে সাধারণত নিরাপদ পরিবহণ ব্যবস্থার মধ্যেই ধরা হয়। তবুও দুর্ঘটনার আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই অনেকেই টিকিট কাটার সময় এমন কোচ বা আসন বেছে নিতে চান, যা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে মনে রাখা জরুরি, এ বিষয়ে ভারতীয় রেলের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
![]()
ট্রেনের কোচের বিন্যাস কীভাবে থাকে?
দূরপাল্লার অনেক ট্রেনে ইঞ্জিনের পর এসি কোচ, তারপর অন্যান্য সংরক্ষিত কোচ, প্যান্ট্রি কার (যদি থাকে), স্লিপার কোচ এবং শেষে সাধারণ কোচ যুক্ত থাকে। তবে সব ট্রেনে একই ধরনের কোচ বিন্যাস থাকে না। ট্রেনের ধরন ও রুট অনুযায়ী কোচের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।
মাঝের কোচকে কেন তুলনামূলক নিরাপদ মনে করা হয়?
রেল নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের একেবারে সামনের বা শেষের কোচ তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সেই কারণেই ট্রেনের মাঝামাঝি থাকা কোচগুলোকে তুলনামূলক নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়। তবে এটি কোনও নিশ্চিত নিয়ম নয় এবং সব ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে একই ফল হবে—এমনও নয়।
![]()
সবচেয়ে নিরাপদ আসন কি সত্যিই মাঝখানেরটি?
কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে রেল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, একটি কোচের মাঝামাঝি অংশে থাকা আসনগুলো তুলনামূলক নিরাপদ হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ৭২ আসনের একটি কোচে মাঝামাঝি নম্বরের আসনকে অনেকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে এই ধারণাও গবেষণা ও পর্যবেক্ষণনির্ভর, ভারতীয় রেলের কোনও সরকারি নির্দেশিকা নয়।
![]()
টিকিট বুক করার সময় আর কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন?
শুধু কোচ বা আসন নির্বাচনই নয়, নিরাপদ ভ্রমণের জন্য আরও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—ট্রেনে ওঠানামার সময় সতর্ক থাকা, চলন্ত ট্রেনে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে না থাকা, লাগেজ সঠিকভাবে রাখা, জরুরি নির্গমন পথ সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত রেলের নির্দেশ মেনে চলা। এসব অভ্যাস দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
![]()
বর্ষার মরশুমে ট্রেনে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? অনেক যাত্রীরই প্রশ্ন থাকে, ট্রেনের কোন বগি বা কোন আসন তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ। যদিও ভারতীয় রেলের তরফে এ বিষয়ে কোনও সরকারি নির্দেশিকা নেই, তবুও দুর্ঘটনা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের কিছু মতামত রয়েছে। টিকিট বুক করার আগে সেগুলি জেনে নেওয়া যেতে পারে।











