‘অশুভ’ বলা হলেও মঙ্গলসূত্রে কেন কালো পুঁতির ব্যবহার? জানলে বদলে যাবে ধারণা

‘অশুভ’ বলা হলেও মঙ্গলসূত্রে কেন কালো পুঁতির ব্যবহার? জানলে বদলে যাবে ধারণা

বিয়েবাড়ি বা শুভ অনুষ্ঠানে কালো পোশাক এড়িয়ে চলেন অনেকেই। কারণ বহু মানুষের বিশ্বাস, কালো রং অশুভের প্রতীক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, সেই কালো রংই আবার মঙ্গলসূত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বিবাহিত নারীদের এই ঐতিহ্যবাহী অলঙ্কারের সঙ্গে কালো পুঁতির সম্পর্ক কেন এত গভীর—এই প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে।

মঙ্গলসূত্র শুধু অলঙ্কার নয়, দাম্পত্যের প্রতীক

বিবাহিত নারীরা যেমন শাখা, পলা বা সিঁদুর ধারণ করেন, তেমনি অনেকেই মঙ্গলসূত্র পরেন। বিশেষ করে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে এই অলঙ্কার বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। আধুনিক সময়ে নানান ডিজাইনের মঙ্গলসূত্র জনপ্রিয় হলেও এর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব অপরিবর্তিত রয়েছে।

কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করতেই কালো পুঁতি

শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, মঙ্গলসূত্রে থাকা কালো পুঁতি নেতিবাচক শক্তি ও কুদৃষ্টি থেকে রক্ষা করার প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, এই পুঁতিগুলি স্বামীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর জন্য শুভ শক্তি সৃষ্টি করে এবং দাম্পত্য জীবনে স্থিতি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

মঙ্গলসূত্র হারানোকে অশুভ মনে করা হয়

অনেক বিবাহিত নারী মনে করেন, মঙ্গলসূত্র ছিঁড়ে যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া শুভ লক্ষণ নয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এটি দাম্পত্য সম্পর্কে সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। সেই কারণেই অনেকে মঙ্গলসূত্র সবসময় গলায় ধারণ করে রাখার চেষ্টা করেন।

সোনা ও কালো পুঁতির বিশেষ তাৎপর্য

শাস্ত্র অনুযায়ী, সোনা ও কালো পুঁতির মিশ্রণে তৈরি মঙ্গলসূত্র শুভ শক্তির প্রতীক। অনেকের বিশ্বাস, এটি পরলে বৃহস্পতির শুভ প্রভাব বৃদ্ধি পায় এবং পরিবারে সমৃদ্ধি ও সুখ-শান্তি বজায় থাকে। তাই মঙ্গলসূত্রকে শুধু অলঙ্কার নয়, বরং এক ধরনের আধ্যাত্মিক সুরক্ষার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।

অনেক সংস্কৃতিতে কালো রংকে অশুভ বলে মনে করা হলেও মঙ্গলসূত্রে এই রঙের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সোনার সঙ্গে কালো পুঁতির মিশেলে তৈরি এই অলঙ্কারকে বিবাহিত নারীদের মঙ্গল ও দাম্পত্য সুখের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। শাস্ত্র মতে, কালো পুঁতি নেতিবাচক শক্তি ও কুদৃষ্টি থেকে সুরক্ষা দেয় বলেই মঙ্গলসূত্রে এর ব্যবহার।

Leave a comment