বাঙালির যে-কোনও শুভ অনুষ্ঠান বা পারিবারিক ভোজ মানেই পায়েস। গোবিন্দভোগ চাল, ঘন দুধ আর নলেন গুড়ের মেলবন্ধনেই অভ্যস্ত জিভ। কিন্তু শীতের এই মরসুমে যদি সেই পরিচিত স্বাদে একটু নতুনত্ব আনা যায়? উত্তর ২৪ পরগনায় এখন চর্চায় এক অভিনব পদ—ডিমের পায়েস।

পায়েস এবার আমিষ!
চালের পায়েস বা চুষি পিঠের পায়েসের বাইরে বেরিয়ে এবার অনেকেই ঝুঁকছেন ডিমের পায়েসের দিকে। দেখতে পায়েসের মতোই, কিন্তু স্বাদে রয়েছে আমিষের নতুন চমক। একবার খেলে এই স্বাদ সহজে ভোলার নয় বলেই মত খাদ্যরসিকদের।
কীভাবে বানাবেন ডিমের পায়েস
ডিমের পায়েস বানানো অত্যন্ত সহজ। প্রথমে দুধ ভালো করে জাল দিয়ে ঘন করতে হবে। এরপর তার মধ্যে নলেন গুড় দিয়ে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিতে হবে। দুধ যখন ঘন হবে, তখনই তাতে ডিম ফাটিয়ে দিতে হবে। ডিম ঝুরোঝুরো হয়ে দুধের সঙ্গে মিশে যাবে, ফলে কোনও আঁশটে গন্ধ থাকবে না।

অল্প সময়েই তৈরি
এই পায়েস বানাতে সময় লাগে মাত্র ২০–২৫ মিনিট। প্রধান উপকরণও খুব সাধারণ—দুধ, ডিম আর গুড়। তাই হঠাৎ অতিথি এলে বা শীতের সন্ধ্যায় পরিবারের জন্য নতুন কিছু বানাতে চাইলে এটি আদর্শ রেসিপি।
ফুড ফেস্টিভ্যালেও জনপ্রিয়
উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন ফুড ফেস্টিভ্যালে মাত্র ৫০ টাকায় মিলছে এই অভিনব ডিমের পায়েস। পায়েস বিক্রেতা অনিন্দিতা ভট্টাচার্য জানাচ্ছেন, নতুন ধরনের এই আমিষ মিষ্টান্নের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

পরিবেশনে বাড়তি আকর্ষণ
ডিমের পায়েস পরিবেশন করা যায় ছোট বাটিতে। উপর থেকে কাজু-কিসমিস বা চেরি ফল দিয়ে সাজালে এর চেহারা যেমন সুন্দর হয়, তেমনই স্বাদও আরও জমে ওঠে। অতিথি আপ্যায়ন হোক বা বাড়ির ভোজ—এই পায়েস সকলের প্রশংসা কুড়োবে।

শীতকাল মানেই পায়েস-পিঠের মরসুম। তবে এবার একঘেয়েমি কাটিয়ে চালের পায়েসের বদলে ট্রাই করুন ডিমের পায়েস। নলেন গুড় ও ঘন দুধে তৈরি এই আমিষ পায়েস অল্প সময়েই বানানো যায় এবং স্বাদে একেবারে আলাদা।













