ফুলে ফুলে ছেয়ে যাবে গাঁদা গাছ! শিকড়ের কাছে ফসফরাস সার আর এই ‘জাদুকরী স্প্রে’ দিলেই দেখবেন ম্যাজিক

গাঁদা গাছে ফুল আসছে না? শিকড়ের কাছে ফসফরাস-পটাশ সার ও বিশেষ স্প্রে ব্যবহার করলেই ফুলে ফুলে ভরে যাবে গাছ। জানুন বিশেষজ্ঞের সহজ টিপস।

শীতের রোদে হলুদ-কমলা গাঁদা ফুলে ভরে উঠলে এক নিমেষেই বদলে যায় বাড়ির বারান্দা বা উঠোনের চেহারা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, গাছ বড় হলেও ফুলের দেখা নেই। জল-সার সব ঠিকঠাক দেওয়া সত্ত্বেও কেন ফুল ফুটছে না? এর উত্তর দিচ্ছেন উদ্যান বিশেষজ্ঞরাই।

কেন গাঁদা গাছে ফুল আসে না

হাজারিবাগের শ্রী রাম গার্ডেনের অভিজ্ঞ মালী রাকেশ সিং জানাচ্ছেন, শীতকালে গাঁদা গাছে ফুল না আসার প্রধান কারণ হল ফসফরাস ও পটাশের ঘাটতি। বাইরে থেকে গাছ সতেজ দেখালেও ভিতরে ভিতরে পুষ্টির অভাব থাকলে কুঁড়ি আসা বন্ধ হয়ে যায়।

পর্যাপ্ত রোদ না পেলেও সমস্যা

গাঁদা গাছের জন্য দিনে অন্তত ৬–৭ ঘণ্টা সরাসরি সূর্যালোক অত্যন্ত জরুরি। বারান্দা বা ছাদের গাছ যদি বেশি ছায়ায় থাকে, তবে সেটিকে দ্রুত রোদযুক্ত জায়গায় সরিয়ে নেওয়া উচিত। না হলে কুঁড়ি ঝরে পড়ে বা তৈরি হয়ই না।

অতিরিক্ত নাইট্রোজেনেও ফুল কমে

অনেকেই গাছকে সবুজ ও ঘন করতে বেশি নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, নাইট্রোজেন গাছ বাড়ালেও ফুল ফোটাতে সাহায্য করে না। বরং এতে ফুল আসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

শিকড়ের কাছে দিন ফসফরাস-পটাশ

ফুল বাড়াতে চাইলে শিকড়ের কাছে হাড়ের গুঁড়ো বা ভার্মিকম্পোস্টের সঙ্গে ফসফরাস ও পটাশ সার ব্যবহার করুন। এতে মাটির উর্বরতা বাড়বে এবং গাছ শক্ত হয়ে বেশি কুঁড়ি ধরবে।

‘জাদুকরী স্প্রে’ কীভাবে করবেন

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী,

প্রতি ৪০–৫০টি গাছে ১ কেজি ডিএপি স্প্রে করা যেতে পারে

তার সঙ্গে হালকা পটাশ স্প্রে করলে ফল আরও ভালো হবে

এই স্প্রে গাছের ফুল ফোটার ক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।

ছাঁটাই ও জল দেওয়ার সঠিক নিয়ম

পুরনো ও শুকনো ফুল নিয়মিত কেটে ফেললে নতুন কুঁড়ি দ্রুত আসে। শীতকালে জল দিতে হবে অল্প কিন্তু নিয়মিত। অতিরিক্ত জল দিলে শিকড় পচে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, ফলে ফুল ফোটা বন্ধ হয়ে যায়।

শীতকাল গাঁদা ফুলের আদর্শ সময় হলেও অনেকের গাছেই ফুল আসে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুষ্টির ঘাটতি, ভুল সার প্রয়োগ ও কম রোদই মূল কারণ। সঠিক ফসফরাস-পটাশ সার ও যত্ন নিলেই গাঁদা গাছ ভরে উঠবে ফুলে।

Leave a comment