চাকরি নেই, অথচ যোগ্যতা রয়েছে—এমন বহু তরুণ-তরুণীর জন্য বড় খবর। কর্মহীন যুবসমাজকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘যুবশক্তি ভরসা’ প্রকল্প। প্রস্তাব অনুযায়ী, যোগ্য স্নাতক বেকার যুবক-যুবতীরা মাসে ৩,০০০ টাকা এবং অন্যান্য যোগ্য কর্মহীন আবেদনকারীরা মাসে ২,০০০ টাকা পেতে পারেন। তবে এখনই আবেদন করা যাবে না। কারণ প্রকল্পের অনলাইন পোর্টাল এখনও খোলেনি।
যুবশক্তি ভরসা প্রকল্পে কত টাকা মিলবে?
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আলাদা হবে।
স্নাতক ও কর্মহীন যুবক-যুবতী: মাসে ৩,০০০ টাকা।
স্নাতক নন, কিন্তু যোগ্য কর্মহীন আবেদনকারী: মাসে ২,০০০ টাকা।
অর্থাৎ, প্রকল্পের আওতায় যোগ্যতার ভিত্তিতে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
প্রাথমিকভাবে যে যোগ্যতার কথা সামনে এসেছে, তা অনুযায়ী—
আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
আবেদনকারীকে কর্মহীন হতে হবে।
স্নাতক কর্মহীনদের জন্য ৩,০০০ টাকা সহায়তার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যান্য যোগ্য কর্মহীনদের জন্য ২,০০০ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
অন্য কোনও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ করলে আবেদন করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকতে পারে।তবে এগুলি এখনও চূড়ান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তির বিকল্প নয়। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশের পর যোগ্যতার শর্তে পরিবর্তন হতে পারে।
শুধু আবেদন করলেই কি টাকা মিলবে?
না। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আবেদন করার পর উপযুক্ত যাচাইয়ের কথাও বলা হয়েছে।আবেদনকারীর প্রকৃত কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি যাচাই করতে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা হতে পারে। সেই যাচাইয়ের রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত উপভোক্তা তালিকা তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
যুবশক্তি ভরসার পোর্টাল কবে খুলবে?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অনলাইন আবেদন শুরু হবে কবে?
বর্তমানে যুবশক্তি ভরসা প্রকল্পের আবেদন পোর্টাল চালু হয়নি। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এখনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
প্শাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে দুর্গাপুজোর আগেই অনলাইন পোর্টাল চালু হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
তাই পোর্টাল খোলার আগে কোনও ওয়েবসাইট বা ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে আবেদন করার চেষ্টা করা উচিত নয়।
কীভাবে আবেদন করবেন?
বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তাই এখন কোনও ফর্ম পূরণ করার প্রয়োজন নেই।পোর্টাল চালু হলে সম্ভাব্যভাবে অনলাইনে আবেদন করতে হতে পারে। আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, পরিচয় এবং পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি সংক্রান্ত নথি দিতে হতে পারে।চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে যে নথির তালিকা দেওয়া হবে, সেটিই অনুসরণ করতে হবে।
এখন থেকেই কোন নথি প্রস্তুত রাখবেন?
পোর্টাল খোলার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে রাখলে পরে আবেদন করতে সুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতার আসল বা প্রভিশনাল শংসাপত্র সংগ্রহ করে রাখার প্রবণতা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।
সম্ভাব্যভাবে প্রয়োজন হতে পারে—
শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র
বয়সের প্রমাণপত্র
পরিচয়পত্র
ঠিকানার প্রমাণ
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য
পরিবারের আয়ের প্রমাণপত্র
কর্মহীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় নথি
তবে কোন কোন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নিশ্চিত হবে।
আগের প্রকল্পের সঙ্গে কী পার্থক্য?
এর আগে রাজ্যে শিক্ষিত বেকারদের জন্য যুবশ্রী এবং যুবসাথীর মতো প্রকল্প চালু ছিল। সেই প্রকল্পগুলির তুলনায় নতুন ‘যুবশক্তি’ উদ্যোগে আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।শুধু টাকা দেওয়াই নয়, কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।
কতদিন টাকা পাওয়া যাবে?
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মহীন অবস্থায় থাকা যোগ্য যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কতদিন পর্যন্ত এই সুবিধা পাওয়া যাবে, কীভাবে কর্মসংস্থান যাচাই হবে এবং চাকরি পেলে সুবিধা কীভাবে বন্ধ হবে—এই বিষয়গুলির বিস্তারিত নিয়ম চূড়ান্ত সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট হওয়ার কথা।
রাজ্যের কর্মহীন যুবক-যুবতীদের জন্য প্রস্তাবিত ‘যুবশক্তি ভরসা’ প্রকল্পে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী মাসে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে। তবে এখনও অনলাইন পোর্টাল চালু হয়নি এবং সরকারি চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়নি। সম্ভাব্য আবেদন শুরুর সময়, যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে জেনে নিন।








