কুডানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ইউনিট-৫-এ ৩২০ টন রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন সম্পন্ন

তামিলনাড়ুর কুডানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পঞ্চম ইউনিটে প্রায় ৩২০ টন ওজনের রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। পারমাণবিক শক্তি বিভাগ জানিয়েছে, এর পর নিউক্লিয়ার স্টিম সাপ্লাই সিস্টেম-সংক্রান্ত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শুরু হবে।

ভারতের পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচিতে আরও একটি অগ্রগতি হিসেবে তামিলনাড়ুর কুডানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পঞ্চম ইউনিটে প্রায় ৩২০ টন ওজনের রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল (RPV) সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। ভারত-রাশিয়া সহযোগিতায় পরিচালিত এই বৃহৎ জ্বালানি প্রকল্পে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল যে কোনও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অংশ। এর ভেতরে রিঅ্যাক্টর কোর অবস্থিত থাকে, যেখানে নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করা হয়। ভারী ও জটিল এই যন্ত্রটি কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড এবং নির্ভুল প্রকৌশল প্রক্রিয়ায় নির্মিত হয়। কুডানকুলম ইউনিট-৫-এ স্থাপিত এই RPV-এর ওজন প্রায় ৩২০ টন এবং বিশেষ হেভি-লিফট ক্রেনের সাহায্যে এটি রিঅ্যাক্টর ভবনে স্থাপন করা হয়েছে।

কুডানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে আন্তঃসরকারি পারমাণবিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই প্রকল্পকে দুই দেশের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হয় এবং এটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রকল্পের অধীনে একাধিক রিঅ্যাক্টর ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

পারমাণবিক শক্তি বিভাগ (DAE) এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপনের পর এখন ইউনিট-৫-এ নিউক্লিয়ার স্টিম সাপ্লাই সিস্টেম (NSSS)-এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য প্রধান যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। পরবর্তী পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন পাইপিং, কুলিং সিস্টেম এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের সমন্বয় করা হবে, যা একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য।

কুডানকুলম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ইউনিট-৫-এ ৩২০ টন রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল স্থাপন সম্পন্ন

এই অগ্রগতিকে ভারতের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পারমাণবিক শক্তিকে কম কার্বন নিঃসরণযুক্ত নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস হিসেবে ধরা হয়। পারমাণবিক শক্তি বিভাগের মতে, এই উন্নয়ন নিম্নলিখিত লক্ষ্যগুলোকে শক্তিশালী করে:

  • পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি
  • জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস
  • জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার
  • দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ
  • প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা ও নিরাপত্তা মানদণ্ডের উন্নয়ন

৩২০ টনের মতো ভারী যন্ত্রপাতি রিঅ্যাক্টর ভবনের ভেতরে স্থাপন করা একটি অত্যন্ত জটিল প্রকৌশল প্রক্রিয়া। এ সময় অত্যাধুনিক হেভি-লিফট ক্রেন ব্যবহার, মাইক্রো-স্তরের নির্ভুলতার সঙ্গে স্থাপন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ এবং গুণমান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষার প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই প্রক্রিয়া ভারতের পারমাণবিক প্রকৌশল অবকাঠামোর অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে। প্রকল্পের অন্যান্য ইউনিটেও কাজ এগিয়ে চলেছে। এর আগে এপ্রিল ২০২৬-এ তৃতীয় ইউনিটে “স্পিলেজ টু ওপেন রিঅ্যাক্টর” পর্যায় শুরু হয়েছিল, যার আওতায় প্রধান কুলিং সিস্টেম এবং নিরাপত্তা পাইপলাইনগুলোর পরিষ্কারকরণ সম্পন্ন করা হয়।

 

Leave a comment