প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ সফরের মধ্যেই ফের অস্বস্তিতে বিজেপি। ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রেতা নিগ্রহের ঘটনায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন দলের সাংসদ তথা প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এই ঘটনায় শুধু অভিযুক্তদেরই নয়, পরোক্ষভাবে দলের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
‘কুলাঙ্গার’ মন্তব্যে তীব্র আক্রমণ
একটি বাংলা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নিগ্রহে জড়িতদের সরাসরি ‘কুলাঙ্গার’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর প্রশ্ন, একজন খেটে খাওয়া মানুষের রুজি-রোজগার বন্ধ করে দেওয়ার অধিকার কারা দিল? কাউকে মারধর করার সাহসই বা পেল কোথা থেকে?
![]()
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এ ধরনের বর্বরতা নয়
প্রাক্তন বিচারপতির স্পষ্ট বক্তব্য, এই ধরনের হিংসাত্মক আচরণ কখনওই বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ নয়। তিনি বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর আক্রমণ বরদাস্ত করা যায় না। এমন ঘটনা সমাজে ভয়ংকর বার্তা দেয়।
বিজেপির অন্দরে বিতর্ক আরও ঘনীভূত
এই মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই গেরুয়া শিবিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ প্যাটিস-কাণ্ডে অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেছিলেন বিজেপিরই এক আইনজীবী নেতা। এমনকী, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জামিনে মুক্তির পর অভিযুক্তদের সংবর্ধনাও দেন।
দলের ভিতরেই কড়া শুদ্ধিকরণের দাবি
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট করে বলেন, যদি এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কেউ যুক্ত থাকেন, তাহলে তাঁদের অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত। তাঁর মতে, এ ধরনের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ না নিলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আরজি কর প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে তিনি আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। প্রশ্ন তোলেন, ‘অভয়া কি মুসলিম ছিল?’ পাশাপাশি মন্তব্য করেন, বিজেপি যদি কোনও দিন বাংলায় ক্ষমতায় আসে, তা হলে কি মুসলিমদের ধরে ধরে মারা হবে? তাঁর কথায়, বিজেপিকে সুশাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
ব্রিগেডে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে প্যাটিস বিক্রেতাকে নিগ্রহের ঘটনায় কড়া ভাষায় তোপ দাগলেন তমলুকের বিজেপি সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। অভিযুক্তদের ‘কুলাঙ্গার’ আখ্যা দিয়ে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি।











