সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা শুধু রাজ্যের প্রশাসন নয়, আন্তর্জাতিক স্তরেও বাংলার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে—এমনটাই মনে করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার প্রকাশ্যে তিনি জানিয়ে দিলেন, এই ঘটনায় যাঁদের গাফিলতি বা ঔদ্ধত্য সামনে আসবে, তাঁদের প্রত্যেককেই জবাবদিহি করতে হবে।
‘আদিখ্যেতা ও শিথিলতার ফল ভুগতে হবে’
অভিষেকের স্পষ্ট বক্তব্য, যুবভারতীর ঘটনায় সাধারণ মানুষ মেসি–দর্শন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কয়েকজনের ব্যক্তিগত আচরণ ও প্রশাসনিক ঢিলেমির কারণে। তাঁর কথায়, “কয়েকজনের আদিখ্যেতার জন্য হাজার হাজার দর্শক হতাশ হয়েছেন। এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
শুধু উদ্যোক্তা বা আয়োজকরাই নয়, পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিষেক। তাঁর মতে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে যদি আরও সক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়া হত, তাহলে এই বিশৃঙ্খলা এড়ানো যেত। সেই কারণেই নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের কড়া পদক্ষেপে ইঙ্গিত
ঘটনার পর রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে শো–কজ়—এই সিদ্ধান্তগুলিকে ‘লোক দেখানো’ বলেও কটাক্ষ উঠেছে। তবে অভিষেক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে রেয়াত করা হবে না। তিনি বলেন, “মন্ত্রী হোন, পুলিশ আধিকারিক হোন বা কোনও সংস্থার কর্তা—গাফিলতি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা হবেই।”

আন্তর্জাতিক স্তরে মুখ পুড়েছে বাংলার
এই ঘটনার জেরে বাংলার মানহানি হয়েছে বলেও অকপটে স্বীকার করেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। অভিষেকের মতে, আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকার সফর ঘিরে এমন বিশৃঙ্খলা রাজ্যের ভাবমূর্তিকে আঘাত করেছে, যা কোনওভাবেই কাম্য নয়।
দর্শকদের পাশে অভিষেক
মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় বহু দর্শক মাসের পর মাস টাকা জমিয়ে টিকিট কেটেছিলেন—সে কথাও মনে করিয়ে দেন অভিষেক। তাঁর মন্তব্য, “যাঁরা কষ্ট করে টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের ক্ষোভ অযৌক্তিক নয়। তাঁদের হতাশার দায় এড়ানো যাবে না।”

বিরোধীদের রাজনীতি নিয়েও কটাক্ষ
একইসঙ্গে বিরোধীদেরও কড়া বার্তা দিয়েছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, যুবভারতীর ঘটনাকে হাতিয়ার করে যারা রাজনীতি করছে, তারা আসলে বাংলাকেই ছোট করছে। মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়াকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে অহঙ্কার নয়, দায়িত্ববোধের পরিচয় মিলেছে।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি–দর্শন ঘিরে বিশৃঙ্খলার ঘটনার পর কড়া অবস্থান নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক শিথিলতা ও ব্যক্তিগত আদিখ্যেতার দায় এড়ানো যাবে না বলে স্পষ্ট জানালেন তিনি।












