পূর্ব বর্ধমান: মাঠজুড়ে সবুজ ভুট্টাগাছ, আর কিছুদিন পরেই ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষা। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই চাষিদের মাথায় হাত! পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের সমুদ্রগড় এলাকায় বিঘের পর বিঘে ভুট্টার জমিতে হানা দিচ্ছে হনুমানের দল। একেকটি জমিতে ৫০-৬০টি করে হনুমান ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ। তাড়িয়ে দিলেও কিছুক্ষণ পরেই ফের ফিরে আসছে তারা। ফলে চোখের সামনে নষ্ট হচ্ছে মাসের পর মাসের পরিশ্রম।
ফসল পাকার সময়েই বিপদ
ভাগীরথীর তীরবর্তী এলাকার উর্বর জমিতে ভুট্টা চাষ করে সংসার চালান বহু কৃষক। বীজ, সার, সেচ এবং শ্রমিকের পিছনে বিপুল খরচ করার পর যখন ফসল পাকার অপেক্ষা, তখনই দেখা দিয়েছে নতুন সমস্যা।ভুট্টার গন্ধ ও দানা টানতে জমিতে ঢুকে পড়ছে হনুমানের দল। গাছ ভেঙে দেওয়া, ভুট্টা খেয়ে ফেলা এবং অনেক গাছ নষ্ট করে দেওয়ার কারণে জমির বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ।
৫০-৬০টি হনুমানের দল, সামলাতে হিমশিম
চাষিদের দাবি, একেকবার ছোটখাটো দল নয়, একসঙ্গে ৫০-৬০টি পর্যন্ত হনুমান জমিতে ঢুকে পড়ছে। কৃষকেরা তাড়া করলে কিছুক্ষণের জন্য এলাকা ছেড়ে গেলেও ফের অন্য দিক দিয়ে জমিতে ঢুকে পড়ছে তারা।ফলে সারাদিন জমির আশপাশে নজরদারি করেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। একজন কৃষক একদিকে হনুমান তাড়াচ্ছেন, অন্যদিকে আবার অন্য প্রান্তের জমিতে হামলা চালাচ্ছে আরেক দল।
বাড়ছে চাষের খরচ, তার উপর ফসল রক্ষার চিন্তা
বর্তমানে কৃষিকাজের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই খরচ বাড়ছে। বীজ, সার, সেচের জল থেকে শুরু করে শ্রমিক—সবকিছুর পিছনেই আগের তুলনায় বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে কৃষকদের।এরপর ফসল যখন বিক্রির উপযুক্ত হয়ে উঠছে, সেই সময় যদি হনুমানের দল জমি নষ্ট করে দেয়, তাহলে সমস্ত পরিশ্রমই কার্যত জলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই সম্ভাব্য লোকসানের কথা ভেবে দিশেহারা কৃষকেরা।
হনুমানের ভয়ে চাষই বন্ধ করে দিলেন এক কৃষক
এই সমস্যার প্রভাব কতটা গভীর, তার উদাহরণ মিলেছে এলাকার এক কৃষকের ক্ষেত্রে। আগের বছর ভুট্টা চাষ করে হনুমানের উৎপাতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তিনি।সেই অভিজ্ঞতার পর এবার আর ঝুঁকি নিতে চাননি। জমি ফাঁকা রেখেই অন্যত্র ক্ষেতমজুরের কাজ শুরু করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ফসল রক্ষা করা না গেলে চাষ করে লাভ কীএই প্রশ্নই এখন তাঁকে ভাবাচ্ছে।
প্রতিদিনের নজরদারিতেও মিলছে না সমাধান
জমিতে ফসল থাকা অবস্থায় হনুমান তাড়ানোর জন্য কৃষকদের প্রায় সারাদিনই সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কিন্তু এক জায়গা থেকে দলটিকে সরানো গেলেও অন্য দিক থেকে আবার তারা জমিতে ঢুকে পড়ছে।এই পরিস্থিতিতে বিঘের পর বিঘে জমি পাহারা দেওয়া কৃষকদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ফসল পাকার সময় ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি কৃষকদের
চাষিদের বক্তব্য, একদিকে কৃষিকাজের বাড়তি খরচ, অন্যদিকে হনুমানের তাণ্ডব—দুইয়ের চাপে ভুট্টা চাষ ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।ভুট্টার জমি রক্ষা এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে এলাকায়। প্রশাসনের তরফে উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হলে আগামী দিনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে আশা কৃষকদের।
ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগেই হনুমানের দাপটে বিপাকে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর সমুদ্রগড় এলাকার ভুট্টাচাষিরা। ভাগীরথীর তীরে একের পর এক জমিতে ৫০-৬০টি হনুমানের দল ঢুকে পড়ছে। গাছ ভেঙে দেওয়া থেকে শুরু করে ভুট্টা নষ্ট করা—চলছে ব্যাপক ক্ষতি। লোকসানের ভয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক কৃষক চাষ থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবছেন।











