কথা বলা সবজি, কাঁদতে থাকা সিঙাড়া কিংবা রাজমার নাটক—এই সব আজব ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ার ফিড দখল করে ফেলেছে। ‘AI slop’ নামে পরিচিত এই কনটেন্টগুলো হয়তো অর্থহীন, কিন্তু চোখ সরানোও কঠিন। কেন এমন হচ্ছে, তার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের মস্তিষ্ক ও প্রযুক্তির যৌথ খেলায়।
![]()
অ্যালগরিদমের ফাঁদে আটকে পড়া
Instagram ও YouTube-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা, যাতে ব্যবহারকারী ক্রমাগত স্ক্রল করে। আপনি যদি বিভ্রান্ত হয়ে কিছুক্ষণ থামেন, তাতেই অ্যালগরিদম ধরে নেয়—এই কনটেন্ট আপনাকে আকর্ষণ করছে। ফলে আরও একই ধরনের ভিডিও সামনে আসতে থাকে।
এত খারাপ যে ভালো লাগে মনস্তত্ত্ব
AI slop ভিডিওগুলোর বড় শক্তি হল এর অদ্ভুততা। এলোমেলো গল্প, অস্বাভাবিক ভিজ্যুয়াল—সব মিলিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। দর্শক ভাবেন, “এরপর কী আজব জিনিস দেখব?”—এই কৌতূহলই স্ক্রল থামাতে দেয় না। এখানে গুণমান নয়, বরং ‘স্টিমুলেশন’ই আসল।
AI-এর কারণে কনটেন্টের বন্যা
আগে যেখানে একটি ভিডিও বানাতে সময় লাগত, এখন AI কয়েক মিনিটে শত শত ভিডিও তৈরি করতে পারে। ফলে একই ধরনের কনটেন্ট বারবার দেখা যায়। কোনও একটি ফরম্যাট জনপ্রিয় হলেই সেটি নকল করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়—ফলে তৈরি হয় ‘AI slop’-এর স্রোত।
![]()
“ব্রেন রট” – মনোযোগ কমে যাওয়ার বিপদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দ্রুত ও নিম্নমানের কনটেন্ট আমাদের মনোযোগ কমিয়ে দেয়। মস্তিষ্ক অভ্যস্ত হয়ে পড়ে দ্রুত পরিবর্তনে—একটু হাসি, একটু বিভ্রান্তি, তারপর আবার স্ক্রল। ফলে দীর্ঘ বা গভীর কনটেন্টে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়।
আবেগের সহজ ফর্মুলা
অদ্ভুত ভিডিও হলেও, এগুলোতে থাকে পরিচিত আবেগ—ভালোবাসা, দুঃখ, নাটক। যেমন কাঁদতে থাকা সিঙাড়া—হাস্যকর হলেও, সেটি এক ধরনের আবেগকে স্পর্শ করে। মস্তিষ্ক দ্রুত এই সংকেত ধরতে পারে, তাই ভিডিওগুলো সহজেই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
শেয়ারের জোরে ভাইরাল
এই ধরনের ভিডিও মানুষ প্রায়ই মজা করে শেয়ার করে—“দেখ তো এটা কী!”। আর এই শেয়ারই অ্যালগরিদমকে আরও উৎসাহ দেয়। যত বেশি শেয়ার, তত বেশি ভিউ—আর তত বেশি ভাইরাল।
ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন
AI slop আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ হলেও, এটি কনটেন্ট জগতের জন্য বড় সতর্কবার্তা। যদি প্ল্যাটফর্মগুলো গুণমানের বদলে শুধু এনগেজমেন্টকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে সৃজনশীল ও অর্থবহ কনটেন্ট পিছিয়ে পড়তে পারে।
![]()
Instagram ও YouTube-এ ‘AI slop’ ভিডিওর বন্যা। অদ্ভুত ও নিম্নমানের কনটেন্ট হওয়া সত্ত্বেও কেন এগুলো এত ভাইরাল হচ্ছে—তার পেছনে রয়েছে অ্যালগরিদম, মনস্তত্ত্ব ও AI-এর সহজলভ্যতা।













