বারাণসীতে সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদবের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান কর্মীদের প্রদর্শিত একটি পোস্টার ও চিত্রকে কেন্দ্র করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ওই চিত্রে অখিলেশ যাদবকে ভগবান কৃষ্ণের রূপে চারটি বাহুসহ দেখানো হয়েছে, যার মধ্যে দুটি হাতে ভারতীয় সংবিধান প্রদর্শিত হয়েছে।
জন্মদিন উপলক্ষে বারাণসীতে সমাজবাদী পার্টির কর্মীরা হোম-যজ্ঞ, পূজা এবং বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে দলের নেতা ও সমর্থকেরা অখিলেশ যাদবের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। কর্মীরা মিষ্টি বিতরণ, বৃক্ষরোপণ এবং জনসেবামূলক একাধিক কর্মসূচিও পালন করেন। বিপুল সংখ্যক সমর্থক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং দলের সমর্থনে স্লোগান দেন।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে সেই পোস্টারটি, যেখানে অখিলেশ যাদবকে ভগবান কৃষ্ণের রূপে চিত্রিত করা হয়েছে। ছবিতে তাঁকে চারটি বাহুসহ দেখানো হয়েছে এবং দুটি হাতে সংবিধান তুলে ধরা হয়েছে। কর্মীরা এটিকে সংবিধান রক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বার্তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে এই ধরনের উপস্থাপনাকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আসতে শুরু করেছে।
সমাজবাদী পার্টির কর্মীদের দাবি, এই চিত্রটি কেবল একটি প্রতীকী উপস্থাপনা। তাঁদের বক্তব্য, এর উদ্দেশ্য অখিলেশ যাদবের নেতৃত্ব এবং সংবিধানের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা। তাঁদের মতে, কোনও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের বার্তা দেওয়াই ছিল লক্ষ্য।
অন্যদিকে, এই ধরনের উপস্থাপনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধীরাও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার বিতর্কের বিষয় হতে পারে। তবে এই বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ভিন্ন।
অনুষ্ঠান চলাকালীন হোম-যজ্ঞ ও পূজায় বিপুল সংখ্যক দলের পদাধিকারী ও কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রাজ্যের সমৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দলের শক্তিবৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন। বিভিন্ন স্থানে রক্তদান শিবির, দরিদ্রদের খাদ্য বিতরণ এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী পরিবেশে এ ধরনের প্রতীকী আয়োজন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে। তবে কোনও রাজনৈতিক নেতাকে ধর্মীয় রূপে উপস্থাপন করা প্রায়ই জনপরিসরে আলোচনা এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমানে বারাণসীতে অখিলেশ যাদবের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান এবং তাঁকে ভগবান কৃষ্ণের রূপে দেখানো পোস্টার আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। সমর্থকেরা একে সম্মান ও প্রতীকী অভিব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করছেন, আর সমালোচকেরা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক আয়োজনে ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে আবারও বিতর্ক তীব্র হয়েছে।












