পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। একদিকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান Akhilesh Yadav পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন, অন্যদিকে তিনি নিজে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেননি।
এই অনুপস্থিতি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Bloc)-র কৌশল এবং অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নির্বাচনের আগে আশা করা হয়েছিল যে Akhilesh Yadav পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সক্রিয় প্রচার করবেন। তবে তিনি কোনও সভা করেননি এবং কোনও জনসমক্ষে নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
এই পরিস্থিতি আলোচনায় এসেছে কারণ বিহারের নেতা Tejashwi Yadav, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী Hemant Soren এবং দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Arvind Kejriwal-সহ একাধিক বিরোধী নেতা পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে প্রচার করেছেন।
চলতি বছরের শুরুতে Akhilesh Yadav কলকাতায় Mamata Banerjee-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। সেই সময় দুই নেতার রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পায়। ওই সাক্ষাতের পর ধারণা করা হয়েছিল যে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সক্রিয়ভাবে প্রচার করবেন। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে একাধিক সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের মধ্যে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi তাঁর প্রচার অভিযানে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছেন।
![]()
এই পরিস্থিতিতে Akhilesh Yadav যদি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সক্রিয় প্রচার করতেন, তবে তা বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারত।
আরেকটি কারণ হিসেবে কৌশলগত সতর্কতার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে, কারণ ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান মুখপাত্র রাজেন্দ্র চৌধুরী জানান, Akhilesh Yadav সামাজিক মাধ্যম এবং বিবৃতির মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সমর্থনের অর্থ কেবল মাঠে উপস্থিতি নয়, রাজনৈতিক বার্তা প্রদানও এর অংশ। তিনি আরও বলেন, Akhilesh Yadav-এর সমর্থন সম্পূর্ণভাবে Mamata Banerjee-র পক্ষে রয়েছে।
সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তাঁর অনুপস্থিতিকে উত্তর প্রদেশের নির্বাচন বা রাজনৈতিক মতভেদের সঙ্গে যুক্ত করা সঠিক নয়।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র ভেতরে বিভিন্ন দল নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী কাজ করছে বলেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেখানে কিছু নেতা পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় প্রচার করছেন, সেখানে অন্যরা কেবল সমর্থনেই সীমাবদ্ধ থাকছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভিন্নতা জোটের শক্তি বা দুর্বলতা—দুটিই হতে পারে, যা নির্বাচনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, Akhilesh Yadav-এর পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে অনুপস্থিতি উত্তর প্রদেশের রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ বিবেচনায় এটি একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত বলে ধরা হচ্ছে।
তবে সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এর সঙ্গে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।










