ভোটের আগের রাতেই বড়সড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল আলিপুরদুয়ার। ডিসিআরসি থেকে ভোটকেন্দ্রে কর্মীদের না পৌঁছনোয় তৈরি হয় বিভ্রান্তি। তবে শেষমেশ প্রিসাইডিং অফিসারদের সক্রিয় ভূমিকা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কর্মী না পৌঁছনোয় জটিল পরিস্থিতি
আলিপুরদুয়ার জেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ে ভোটকর্মীরা না পৌঁছনোয় সমস্যা তৈরি হয়। নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে দু’জন কর্মী থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই টিম অসম্পূর্ণ ছিল। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ডিসিআরসিতে অপেক্ষা করেও অনেকেই রওনা দিতে পারেননি।
মাঠে নামলেন পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা
পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে ডিএসপি ও এসডিপিও—সবাই সরাসরি ডিসিআরসিতে উপস্থিত হন। ভোটকর্মীদের বোঝানো, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত বুথে পাঠানোর জন্য প্রশাসন সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করে।
রিজার্ভ কর্মীদের রহস্যজনক অনুপস্থিতি
অভিযোগ উঠেছে, অনেক রিজার্ভ ভোটকর্মী হাজিরা খাতায় সই করে নিখোঁজ হয়ে যান। কেউ কেউ নির্দিষ্ট স্থানের বাইরে অবস্থান করছিলেন বলেও জানা যায়। এর জেরেই একাধিক টিম অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং ২৭টি ভোটকেন্দ্রে কর্মী পৌঁছাতে দেরি হয়।
প্রিসাইডিং অফিসারদের উদ্যোগে মেলে সমাধান
শেষ পর্যন্ত প্রিসাইডিং অফিসাররাই নিজ উদ্যোগে ভোটকর্মীদের খুঁজে বের করে বুথে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। এক প্রিসাইডিং অফিসার জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও প্রশাসনিক গাফিলতি মিলিয়েই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তবে সুষ্ঠু ভোট করানোর জন্য সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন।
রাতেই বুথে পৌঁছলেন কর্মীরা
কুমারগ্রাম, ফালাকাটা ও কালচিনি বিধানসভা এলাকার ২৭টি ভোটকেন্দ্রে অবশেষে রাতেই পৌঁছে যান ভোটকর্মীরা। জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সব কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।
West Bengal Assembly Elections 2026-এর প্রাক্কালে আলিপুরদুয়ারে ভোটকর্মী সংকটে তৈরি হয়েছিল বড় জট। নির্দিষ্ট সময়ে বহু কর্মী না পৌঁছনোয় উদ্বেগ বাড়লেও শেষ পর্যন্ত রাতেই সমস্যার সমাধান হয়। প্রিসাইডিং অফিসারদের উদ্যোগে ২৭টি বুথে ভোটকর্মীরা পৌঁছে যান।







