ভোরের আলো ফোটার আগেই ভোটারদের উপস্থিতি যেন প্রমাণ করে দিল—গণতন্ত্রের উৎসবকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ কতটা তুঙ্গে। সকাল ৭টা বাজতেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ, তবে তার আগেই বুথের সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ।
বিস্তীর্ণ এলাকায় একযোগে ভোটগ্রহণ
প্রথম দফায় রাজ্যের ১৬টি জেলায় মোট ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও তরাই অঞ্চল থেকে শুরু করে জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকা, পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও পূর্ব মেদিনীপুর—সব জায়গাতেই চলছে ভোটগ্রহণ। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশাসনের নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
চা-বাগান থেকে শহর—সর্বত্র ভোটারদের ঢল
নকশালবাড়ির চা-বাগান এলাকায় সকাল থেকেই ভোটারদের ভিড় নজর কেড়েছে। কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও ভোট দেওয়ার জন্য আগেভাগেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে পুরুলিয়া ও আসানসোলের শহুরে বুথগুলিতেও একই ছবি—সকাল থেকেই লম্বা লাইন।
কড়া নিরাপত্তা বলয়ে বুথ
নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রতিটি বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটারদের পরিচয় যাচাইয়ের পরেই ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। স্পর্শকাতর এলাকায় একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
মুর্শিদাবাদে বিশেষ নজর
মুর্শিদাবাদ জেলায় ২২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৫০ লক্ষেরও বেশি। মোট ৬১৫৯টি বুথের মধ্যে বহু স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর কেন্দ্র থাকায় এখানে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে পুরো জেলাজুড়ে।
বুথে শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থাপনা
বুথ লেভেল অফিসাররা ভোটারদের পরিচয় যাচাই করে ভিতরে প্রবেশ করাচ্ছেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইভিএম ও ভিভিপ্যাটের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
West Bengal Assembly Elections 2026-এর প্রথম দফার ভোটে সকাল হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বুথের বাইরে দীর্ঘ লাইন দেখা গেল। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল থেকে মুর্শিদাবাদ-বীরভূম—সব জায়গাতেই ভোটারদের উৎসাহ নজরকাড়া। কড়া নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতার মধ্যেই শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ।









