সকালে ভেজানো আমন্ড খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। ভিটামিন, মিনারেল, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ এই বাদাম শরীরের নানা উপকারে আসে। কিন্তু দিনে ঠিক কতটি আমন্ড খাওয়া উচিত? খোসাসহ খাবেন, না খোসা ছাড়িয়ে? আর কোন কোন ক্ষেত্রে এই বাদাম এড়িয়ে চলাই ভালো? পুষ্টিবিদের পরামর্শে রইল বিস্তারিত।
আমন্ড কেন স্বাস্থ্যকর?
আমন্ডে রয়েছে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ই, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস এবং ক্যালশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এগুলি হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, শরীরে শক্তি জোগাতে এবং হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
ভিটামিন ই একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যা ত্বকের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখে এবং কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।
মস্তিষ্ক ও স্মৃতিশক্তির জন্য কি উপকারী?
আমন্ডে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধুমাত্র আমন্ড খেলেই স্মৃতিশক্তি বা বুদ্ধিমত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়ামও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
খোসাসহ খাবেন, না খোসা ছাড়িয়ে?
পুষ্টিবিদদের মতে, আমন্ডের খোসায় খাদ্যআঁশ ও পলিফেনল জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। তাই সম্ভব হলে খোসাসহ আমন্ড খাওয়াই বেশি উপকারী। তবে যাঁদের খোসা খেতে অসুবিধা হয়, তাঁরা খোসা ছাড়িয়েও খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে কিছুটা ফাইবার কম পাওয়া যাবে।
প্রতিদিন কতটি আমন্ড খাওয়া উচিত?
পুষ্টিবিদ সোমোশ্রী চট্টোপাধ্যায়ের মতে, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি আমন্ড যথেষ্ট। অতিরিক্ত আমন্ড খেলে ক্যালোরি ও ফ্যাট গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে, যা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
কারা সতর্ক থাকবেন?
যাঁদের দীর্ঘদিনের হজমের সমস্যা, অতিরিক্ত গ্যাস, পেট ফাঁপা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত বেশি পরিমাণে আমন্ড খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।এছাড়া কিডনির কিছু বিশেষ সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও খাদ্যতালিকায় আমন্ড রাখার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
আমন্ড বা কাঠবাদাম পুষ্টিগুণে ভরপুর। হৃদ্যন্ত্র, ত্বক, হাড় এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য এটি উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে বেশি খেলে উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে। পুষ্টিবিদের মতে, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি আমন্ড খাওয়াই যথেষ্ট। পাশাপাশি কারা এই বাদাম নিয়মিত খাবেন না, তাও জেনে রাখা জরুরি।













