অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স রোধে বিকল্প ওষুধের পথে বিশেষজ্ঞরা, poultry-তে বড় পরিবর্তন

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স রোধে বিকল্প ওষুধের পথে বিশেষজ্ঞরা, poultry-তে বড় পরিবর্তন

অ্যান্টিবায়োটিক বিকল্প ওষুধ: কলকাতার রাজ্য প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের বেলগাছিয়া ক্যাম্পাসে আয়োজিত সর্বভারতীয় কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা জানালেন, সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ভয়াবহ আকার নিয়েছে। এ কারণে এখন poultry শিল্পে অ্যান্টিবায়োটিক বা হরমোন ব্যবহার কার্যত বন্ধ। বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলেই প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক, সিনবায়োটিক, ল্যান্টিবায়োটিক ও ফাজ ভাইরাসের মতো আধুনিক উপাদান ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শুধু মুরগির বৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের জন্য নিরাপদ ডিম ও মাংস উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স: বৈশ্বিক মাথাব্যথা

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ও অযাচিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারেই ব্যাকটেরিয়া ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ছে। শুধুমাত্র মানুষের মধ্যে নয়, পশু–পাখি, কৃষি ও মৎস্য ক্ষেত্রেও এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিকযুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে সাধারণ মানুষের শরীরেও রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে।

poultry শিল্পে নতুন দিশা

এখন মুরগির দ্রুত বৃদ্ধি করতে অ্যান্টিবায়োটিক বা হরমোন ব্যবহার বন্ধ। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলে সুষম খাদ্য ও বিকল্প উপাদান দিয়েই বৃদ্ধি সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন বেড়েছে, অন্যদিকে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত হচ্ছে।

বিকল্প ওষুধ: কী কী ব্যবহার হচ্ছে?

ল্যান্টিবায়োটিক, যা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর ধ্বংস করে, এবং ফাজ ভাইরাস, যা সরাসরি জীবাণু আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়—এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া, প্রিবায়োটিক (যেমন ইনিউলিন) এবং উভয়ের সমন্বয় সিনবায়োটিকও এখন কার্যকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য

বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থনারায়ণ জোয়ারদার জানান, গঙ্গার জলে প্রচুর ফাজ ভাইরাস থাকার কারণেই সেখানে জীবাণু জন্মায় না। এ ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান থেকে শিক্ষা নিয়ে আধুনিক গবেষণা এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় এএমআর বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স রোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসছে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এখন বিশ্বজুড়ে এক বড় স্বাস্থ্যসঙ্কট। কলকাতায় আয়োজিত এক কর্মশালায় বিশেষজ্ঞরা জানালেন, অ্যান্টিবায়োটিকের বদলে প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক, সিনবায়োটিক, ল্যান্টিবায়োটিক ও ফাজ ভাইরাস ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে মুরগি উৎপাদন হচ্ছে নিরাপদ ও টেকসই, পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের উপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

Leave a comment