কলকাতা: ২০১৭ সালের জুলাই মাসে একটি নাবালিকা ছাত্রী প্রাইভেট টিউশনের সময় যৌন হেনস্থার শিকার হয়। নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস করলেও হাইকোর্টের রায়ে সেই খালাস বাতিল হয়েছে। বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, পকসো আইনে মামলা হওয়ায় নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষা না হওয়া অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়ার যথাযথ কারণ হতে পারে না।

নিম্ন আদালতের রায় এবং হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:
নিম্ন আদালত অভিযোগ তদন্তে কিছু ত্রুটির কারণে শিক্ষকের রায় বাতিল করেছিল। অভিযুক্তের আইনজীবী মেডিক্যাল পরীক্ষার অনুপস্থিতি উল্লিখন করে রায় বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে হাইকোর্ট বলেছে, নিম্ন আদালতের যুক্তি যথাযথ নয়।হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিক্ষকের আচরণে কিশোরী অস্বস্তিতে পড়েছে এবং হতবাক হয়েছে। মানসিক আঘাতের কারণে তার চিৎকার বা প্রতিবাদ না করা স্বাভাবিক। আদালত আরও জানিয়েছে, মামলাকারী পরিবারের এবং নির্যাতিতার সাক্ষ্য রেকর্ডে বিরোধিতা ছাড়া一致 রয়েছে।

আইনগত প্রেক্ষাপট:
বিচারপতি হাইকোর্টে বলেন, পকসো আইনের আওতায় শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়নের মামলা ক্ষেত্রে মেডিক্যাল পরীক্ষার অনুপস্থিতি অভিযুক্তকে রক্ষা করতে পারে না। নির্যাতিতা রাতেই মায়ের কাছে ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন এবং পরের দিন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। হাইকোর্ট নিশ্চিত করেছে, অভিযোগ যথাযথভাবে দায়ের করা হয়েছে।এই রায় শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট টিউশনের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে।
পরিবার ও আইনজীবীর মন্তব্য:
মামলাকারী পরিবারের আইনজীবী সাবির আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত কোনও তথ্য প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হাইকোর্টের রায় শিশুর মানসিক সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে। এই রায় ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে শিশুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে সাহায্য করবে।

কলকাতার এক নামী স্কুলের শিক্ষক নাবালিকা ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে নিম্ন আদালত বেকসুর খালাস করেছিলেন। তবে কলকাতা হাইকোর্ট ওই রায় খারিজ করে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। হাইকোর্ট উল্লেখ করেছে, শারীরিক ক্ষত না হলেও কিশোরীর মনে যে মানসিক আঘাত লেগেছে, সেটিকে উপেক্ষা করা যায় না।











