পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের প্রচার অভিযান তীব্র করেছে। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা এলাকায় জনসভায় ভাষণ দেওয়ার নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সমস্ত প্রধান রাজনৈতিক দল ভোটারদের আকৃষ্ট করা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সক্রিয় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি তাদের নির্বাচনী প্রচার আরও জোরদার করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের স্তরে ধারাবাহিকভাবে র্যালি ও জনসভার আয়োজন করা হচ্ছে।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, অমিত শাহ শনিবার বাঙ্কুড়া এবং পুরুলিয়া জেলায় তিনটি বড় জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই জনসভাগুলিকে রাজ্যে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি প্রদর্শন এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সকাল ১১টায় বাঙ্কুড়া জেলার ওন্দা বিধানসভা এলাকার ছাতনা অঞ্চলের রামসাগর আঞ্চল ময়দানে প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরপর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছাতনা বিধানসভা এলাকার এথানি ঝাঁটিপাহাড়িতে দ্বিতীয় জনসভায় তিনি ভাষণ দেবেন। এই দুই কর্মসূচিতে স্থানীয় স্তরে দলের কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
![]()
দুপুরের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি বিধানসভা এলাকায় পৌঁছাবেন, যেখানে বিকেল ২টায় কুশলডিহ ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তৃতীয় জনসভায় ভাষণ দেওয়ার নির্ধারিত রয়েছে। এই তিনটি জনসভাকে বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হচ্ছে, যার লক্ষ্য রাজ্যের প্রধান আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় দলের উপস্থিতি শক্তিশালী করা।
বিজেপির এই প্রচার কর্মসূচি রাজ্যে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের কৌশলের অংশ। দলের লক্ষ্য এমন এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়ানো, যেখানে আগে তাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম বলে বিবেচিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি এই নির্বাচনে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করছে এবং স্থানীয় ইস্যুগুলিকে সামনে রেখে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে। র্যালি ও জনসভার মাধ্যমে দলের লক্ষ্য গ্রামীণ ও অর্ধ-শহুরে এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছানো।
এর আগে শুক্রবার অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপির ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সঙ্কল্প পত্র’। এই ঘোষণাপত্রে একাধিক প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দল ক্ষমতায় এলে ছয় মাসের মধ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিশ্চিত করা এবং সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ দ্রুত কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। ঘোষণাপত্রে আইন-শৃঙ্খলা জোরদার করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। দল ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
পাশাপাশি যুবক ও মহিলাদের লক্ষ্য করে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসিক ৩,০০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া রাজ্য সরকারি চাকরিতে, যার মধ্যে পুলিশ বিভাগও অন্তর্ভুক্ত, ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।











