একসময় শুধুই ট্রেন ধরার স্টেশন ছিল। এখন সন্ধ্যা নামলেই যেন আলো-রঙের এক মায়াবী জগৎ! অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় এসে আমূল বদলে গিয়েছে উত্তরবঙ্গের আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন হলদিবাড়ি রেলস্টেশন। আধুনিক সাজসজ্জা, রঙিন আলোকসজ্জা ও শিল্পকলার ছোঁয়ায় এখন এই স্টেশন স্থানীয়দের অন্যতম পছন্দের ‘ইভনিং স্পট’ হয়ে উঠেছে।

সন্ধ্যা নামলেই সাতরঙা আলোর মোহ
সূর্য ডুবলেই বদলে যায় হলদিবাড়ি স্টেশনের চেহারা। কখনও লাল, কখনও সবুজ, কখনও আবার গেরুয়া আলোর ঝলকে গোটা স্টেশন চত্বর যেন এক অন্য রূপ নেয়। আলো ও রঙের এই অপূর্ব সমন্বয় দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকেরা।স্টেশনের এই আলোকসজ্জা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই শুধুমাত্র ছবি তুলতে ও সময় কাটাতে সন্ধ্যায় স্টেশন চত্বরে আসছেন।
‘অমৃত ভারত’ প্রকল্পে বদলে গেল স্টেশনের চেহারা
রেলের ‘অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম’-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই দ্রুত বদলাতে শুরু করে হলদিবাড়ি স্টেশনের পরিকাঠামো। আধুনিক ডিজাইন, উন্নত যাত্রী পরিষেবা এবং নান্দনিক সাজে এখন স্টেশনটি অনেক বেশি আকর্ষণীয়।স্টেশনের দেওয়ালে আঁকা হয়েছে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উত্তরবঙ্গের জীবনযাত্রার নানা শিল্পচিত্র। যাত্রীরা স্টেশনে ঢুকেই যেন উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতির এক ঝলক দেখতে পাচ্ছেন।

নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ নজর
শুধু সৌন্দর্যায়ন নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও আরও জোরদার করা হয়েছে। স্টেশনজুড়ে বসানো হয়েছে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।এর পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা স্টেশনটিকে আরও যাত্রীবান্ধব করে তুলেছে।

ট্রেন ধরার জায়গা থেকে এখন ‘হ্যাংআউট স্পট’
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এখন অনেকেই ট্রেন না ধরলেও শুধুমাত্র ঘুরতে বা সন্ধ্যার সময় কাটাতে স্টেশনে আসছেন। শিশু থেকে প্রবীণ— সকলের কাছেই আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই রেলস্টেশন।সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন ধীরে ধীরে পর্যটনের সম্ভাবনাও তৈরি করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের হাত ধরে নতুন রূপ পেয়েছে উত্তরবঙ্গের হলদিবাড়ি রেলস্টেশন। আধুনিক পরিকাঠামো, রঙিন আলোকসজ্জা, দেওয়ালচিত্র ও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখন এই স্টেশন শুধু যাত্রীদের যাতায়াতের জায়গা নয়, বরং স্থানীয়দের কাছে নতুন আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।











