কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভস্মীভূত গোডাউন যেন এক বিভীষিকাময় মৃত্যুকূপ। আগুন নেভার বহুদিন পরেও ধ্বংসস্তূপ সরালেই বেরিয়ে আসছে দগ্ধ দেহাবশেষ। বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া আরও চারটি দেহে নতুন করে কেঁপে উঠেছে গোটা এলাকা।
চার দিন পরও থামেনি দেহ উদ্ধারের কাজ
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চার দিন কেটে গেলেও উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। বুধবার রাত পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ছিল ২১। বৃহস্পতিবার ভোররাতে দুটি এবং বিকেলের দিকে আরও দুটি অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫-এ।
দেহাবশেষ এতটাই ভস্মীভূত, শনাক্ত করা কঠিন
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলি এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে খালি চোখে শনাক্ত করা কার্যত অসম্ভব। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কেবল হাড়গোড় উদ্ধার হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের গভীর থেকে।
ডিএনএ পরীক্ষাই এখন ভরসা
ইতিমধ্যেই ১৬ জনের দেহ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে এখনও পর্যন্ত ৩২টি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্টেট ফরেনসিক প্যাথলজি উইং এই নমুনাগুলির ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু করেছে।
ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে উদ্ধার হওয়া দেহ
বৃহস্পতিবার যে চারটি দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেগুলি শুক্রবার মোমিনপুর কাটাপুকুর মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এই ২৫ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পোশাক দেখে প্রাথমিক অনুমান, তবে নিশ্চিত নয় পরিচয়
পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই প্রায় পূর্ণাঙ্গ দেহটির শরীরের ৮০–৯০ শতাংশ পুড়ে গেলেও পরনের পোশাক দেখে অনুমান করা হচ্ছে তিনি ওই মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থারই কর্মী। তাঁর আনুমানিক বয়স ৪৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত শনাক্তকরণ না হওয়ায় ওই দেহটিও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের চার দিন পরও থামেনি মৃত্যুর হিসাব। ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় উদ্ধার হয়েছে আরও চারটি অগ্নিদগ্ধ দেহ। সব মিলিয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫।








