বর্ষার মরসুমে ইলিশ ছাড়া বাঙালির খাবারের টেবিল যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু একই ধরনের রান্না বারবার খেলে স্বাদে একঘেয়েমি আসতেই পারে। সেই একঘেয়েমি কাটাতে এবার বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন আনারস-ইলিশ। সর্ষের ঝাঁজ, ইলিশের স্বাদ আর আনারসের হালকা মিষ্টি-টক ফ্লেভারের অনন্য মিশ্রণে তৈরি এই পদ অতিথি আপ্যায়ন থেকে পারিবারিক মধ্যাহ্নভোজ—সব ক্ষেত্রেই হতে পারে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
কী কী উপকরণ লাগবে?
এই বিশেষ পদ তৈরির জন্য লাগবে ৬ টুকরো ইলিশ মাছ, আধা কাপ ছোট করে কাটা পাকা আনারস, দুটি মাঝারি আকারের পেঁয়াজ কুচি, ৭-৮টি কাঁচালঙ্কা, এক চা-চামচ হলুদ গুঁড়ো, আধা চা-চামচ লঙ্কার গুঁড়ো, দুই চা-চামচ সর্ষে বাটা, আধা কাপ সর্ষের তেল এবং স্বাদমতো নুন। চাইলে শেষে সামান্য কাঁচা সর্ষের তেল ছড়িয়ে দিলে সুগন্ধ আরও বেড়ে যাবে।
ধাপে ধাপে তৈরি করুন আনারস-ইলিশ
প্রথমে ইলিশের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে নুন ও হলুদ মাখিয়ে ১০ মিনিট রেখে দিন। এরপর কড়াইয়ে সামান্য সর্ষের তেল গরম করে মাছগুলো হালকা করে ভেজে তুলে রাখুন। একই কড়াইয়ে প্রয়োজনমতো তেল দিয়ে পেঁয়াজ কুচি নরম হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। তারপর হলুদ, লঙ্কার গুঁড়ো, নুন এবং চেরা কাঁচালঙ্কা দিয়ে মশলা ভালোভাবে কষিয়ে নিন।
আনারস ও সর্ষের স্বাদেই লুকিয়ে আসল ম্যাজিক
মশলা কষানো হয়ে গেলে তার মধ্যে আনারসের টুকরো দিয়ে কয়েক মিনিট নেড়ে রান্না করুন। এরপর অল্প জল দিন, তবে খেয়াল রাখবেন ঝোল যেন বেশি পাতলা না হয়। এবার সর্ষে বাটা মিশিয়ে ফুটে উঠলে ভেজে রাখা ইলিশ মাছগুলো আলতোভাবে কড়াইয়ে ছেড়ে দিন। ঢেকে ৮ থেকে ১০ মিনিট রান্না করুন, যাতে মাছের মধ্যে আনারস ও সর্ষের স্বাদ ভালোভাবে মিশে যায়।
পরিবেশনের আগে এই টিপস মেনে চলুন
ঝোল ঘন হয়ে এলে আরও দুই মিনিট কম আঁচে রান্না করে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন সুস্বাদু আনারস-ইলিশ। আনারসে থাকা ভিটামিন সি এবং ইলিশের পুষ্টিগুণ এই পদকে শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিকরও করে তোলে। মিষ্টি, টক আর ঝালের ভারসাম্য এই রান্নাকে অন্য সব ইলিশের পদ থেকে আলাদা করে দেয়।
বর্ষা মানেই বাঙালির পাতে ইলিশের বাহার। তবে বারবার সর্ষে ইলিশ, ভাপা বা ঝাল খেতে খেতে যদি একঘেয়েমি এসে যায়, তাহলে এবার ট্রাই করতে পারেন আনারস-ইলিশ। মিষ্টি-টক আনারস আর ইলিশের অনন্য স্বাদের মেলবন্ধনে তৈরি এই পদ রবিবারের মধ্যাহ্নভোজকে করে তুলবে আরও বিশেষ।













