জার্মানির স্টেডের মা ও শিশু কেন্দ্রে কাস্টডি বিরোধে গুলিবর্ষণে ছয় কর্মী নিহত, তিনজন হেফাজতে

জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনির স্টেডে একটি মা ও শিশু সহায়তা কেন্দ্রে কাস্টডি বিরোধকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণে ছয় কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজনসহ তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

স্টেডে শহরের একটি মা ও শিশু সহায়তা কেন্দ্রে অভিভাবকত্ব (কাস্টডি) সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় কেন্দ্রটির ছয় কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে, যার মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনও রয়েছে, পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় লোয়ার স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্যের স্টেডে শহরের ড্যাঙ্কারস্ট্রাসে অবস্থিত যুবকল্যাণ ও পরিবার সহায়তা কেন্দ্রে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১২টা ১০ মিনিটে গুলিবর্ষণের খবর পায় পুলিশ। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও জরুরি পরিষেবার সদস্য মোতায়েন করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাস্থলেই চার নারী ও এক পুরুষ কর্মীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আরও একজন পরে হাসপাতালে মারা যান। নিহত ছয়জনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং কেন্দ্রটির কর্মী ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন ৪৫ বছর বয়সী তুর্কি বংশোদ্ভূত এক জার্মান নাগরিক, যার জন্ম জার্মানিতে এবং তিনি হ্যানোভারে বসবাস করেন। সোমবার তিনি তার তিন মাস বয়সী কন্যাশিশুর কাস্টডি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রে এসেছিলেন।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের একাধিক কর্মীর সঙ্গে তার বৈঠক নির্ধারিত ছিল। সেই বৈঠকের সময়ই তিনি গুলিবর্ষণ শুরু করেন।

জার্মানির স্টেডের মা ও শিশু কেন্দ্রে কাস্টডি বিরোধে গুলিবর্ষণে ছয় কর্মী নিহত, তিনজন হেফাজতে

যে তিন মাস বয়সী শিশুকে ঘিরে কাস্টডি বিরোধ চলছিল, সে এবং তার মা ঘটনাকালে কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। তবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, তারা কেউ শারীরিকভাবে আহত হননি।

গুলিবর্ষণের পর অভিযুক্ত এক নারীর চালানো গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ এলাকাজুড়ে তল্লাশি শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নিকটবর্তী একটি সড়কে সন্দেহভাজন গাড়িটি থামায়।

পুলিশ এ ঘটনায় মোট তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে, যার মধ্যে প্রধান সন্দেহভাজনও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত কোনো ঝুঁকি নেই।

লুনেবার্গ পুলিশের প্রধান ক্যাথরিন শুল জানান, অভিযুক্ত এর আগে হুমকির অভিযোগে পুলিশের নজরে এসেছিলেন। তবে তাকে অত্যন্ত সহিংস ব্যক্তি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি।

তদন্তে আরও জানা গেছে, তার কাছে বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল না। ব্যবহৃত অস্ত্রটি কীভাবে তার কাছে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লোয়ার স্যাক্সনির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানিয়েলা বেহরেন্স গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী ঘটনাটি সম্পূর্ণভাবে পারিবারিক কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে।

তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সংঘটিত একটি সহিংস অপরাধ এবং এর পেছনে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা অর্থনৈতিক কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটি কেবল পারিবারিক বিরোধ এবং শিশুর কাস্টডি সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।

গুলিবর্ষণের সময় কেন্দ্রটির আশপাশের ডে-কেয়ার ও প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয় এবং পরে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের সুবিধার্থে প্রশাসন সাময়িকভাবে পুরো এলাকা ঘিরে রাখে।

ঘটনার পর স্টেডে শহরে পুলিশ, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং জরুরি চিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

পুলিশ হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনের পটভূমি, পারিবারিক বিরোধ, মানসিক অবস্থা, হামলার পরিকল্পনা, ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা তদন্ত করছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদ ও ফরেনসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।

 

Leave a comment