বর্ষা এলেই স্বস্তির পাশাপাশি পশুপালকদের চিন্তাও বাড়ে। কারণ এই সময় গোয়ালঘরের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উৎপাত দ্রুত বাড়তে পারে। সারাদিন মাছির জ্বালায় অস্থির হয়ে পড়ে গরু-মহিষ। ফলে পশুর স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া ও বিশ্রাম ব্যাহত হতে পারে। তবে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে গোয়ালঘরে মাছির বংশবৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
বর্ষায় কেন বাড়ে মাছির উপদ্রব?
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকে। তার সঙ্গে গোয়ালঘরে জমে থাকা গোবর, ভেজা পশুখাদ্য এবং নোংরা জল মাছির বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে অল্প সময়ের মধ্যেই মাছির সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।অতিরিক্ত মাছির উৎপাত পশুদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। বারবার মাছি তাড়াতে গিয়ে তারা অস্থির হয়ে পড়ে এবং বিশ্রামেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মাছির মাধ্যমে বিভিন্ন জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কাও থাকে।
মাছির উৎপাত কমাতে প্রথমেই পরিষ্কার রাখুন গোয়ালঘর
মাছি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল গোয়ালঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। প্রতিদিন নিয়ম করে গোবর পরিষ্কার করুন। পশুর থাকার জায়গায় যাতে বর্জ্য জল জমে না থাকে, সেদিকেও নজর রাখুন।ভেজা পশুখাদ্য দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখবেন না। খাবার শুকনো ও পরিষ্কার জায়গায় সংরক্ষণ করুন। গোয়ালঘরের মেঝে এবং আশপাশের নোংরা জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করলে মাছির প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কমে।
ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে মাছি কমাবেন?
মাছির উৎপাত নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদ্ধতিও অনেকে ব্যবহার করেন। নিমপাতার ধোঁয়া বা সীমিত পরিমাণে নিম তেল মাছি-মশা দূরে রাখতে সহায়ক হতে পারে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে।তবে ধোঁয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। গোয়ালঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা থাকা জরুরি এবং পশুর শ্বাসকষ্ট হতে পারে এমনভাবে ধোঁয়া তৈরি করা উচিত নয়।
স্প্রে ব্যবহার করলে সতর্কতা জরুরি
মাছি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাজারজাত স্প্রে বা কীটনাশক ব্যবহার করলে পণ্যের লেবেলে দেওয়া নির্দেশিকা মেনে চলুন। কোনও স্প্রে সরাসরি পশুর চোখ, নাক, মুখ বা খোলা ক্ষতের উপর প্রয়োগ করবেন না।পশুর শরীরে ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়—এমন কোনও রাসায়নিক গোয়ালঘর বা পশুর গায়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে পশু চিকিৎসক বা স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিরাপদ পণ্য বেছে নিন।
মাছি কমলে কি দুধ উৎপাদন বাড়বে?
মাছির উৎপাত কমলে গরু-মহিষের অস্বস্তি ও চাপ কমতে পারে। পর্যাপ্ত খাবার, বিশ্রাম, পরিষ্কার পরিবেশ এবং সঠিক পরিচর্যা পশুর স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে দুধ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য হতে পারে।তবে মাছি নিয়ন্ত্রণ করলেই দুধ উৎপাদন চারগুণ বেড়ে যাবে—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত নয়। দুধের পরিমাণ নির্ভর করে পশুর জাত, বয়স, স্বাস্থ্য, খাদ্য, জল, পরিচর্যা এবং দুধ দেওয়ার পর্যায়ের মতো একাধিক বিষয়ের উপর।
পশুকে সুস্থ রাখতে আরও যে বিষয়গুলি মনে রাখবেন
বর্ষাকালে পশুর থাকার জায়গা শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। পরিষ্কার পানীয় জল সরবরাহ করুন এবং পচা বা দূষিত খাবার খাওয়াবেন না। পশুর শরীরে কোনও ক্ষত, চর্মরোগ বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।একইসঙ্গে গোয়ালঘরের আশপাশে জল জমতে দেবেন না। কারণ জমে থাকা জল মশার বংশবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, জমে থাকা জল, গোবর ও ভেজা পশুখাদ্যের কারণে গোয়ালঘরে মাছি-মশার উপদ্রব বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে গরু-মহিষ অস্বস্তিতে থাকার পাশাপাশি রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া উপায় ও নিরাপদ মাছি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।











