অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের বড় আপডেট দিল রাজ্য সরকার। উত্তরবঙ্গ সফরে প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রকল্পের অধিকাংশ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গেলেও কিছু আবেদন প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আটকে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কোন কোন শ্রেণির আবেদনকারী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না এবং যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের জন্যও জানিয়ে দেন পরবর্তী করণীয়।
![]()
এক কোটিরও বেশি মহিলার অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে টাকা
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ এক কোটিরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আদিবাসী মহিলাও রয়েছেন। রাজ্য সরকারের দাবি, মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতেই এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
পুরনো প্রকল্পের বদলে বাড়ল আর্থিক সহায়তা
আগের সরকারের সময় চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ উপভোক্তারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির মহিলারা ১,৭০০ টাকা পেতেন। বর্তমানে সেই প্রকল্পের পরিবর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় যোগ্য মহিলাদের ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।
![]()
১ জুলাই টাকা না এলে কী করবেন?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ২৬ লক্ষ আবেদনের ক্ষেত্রে পোর্টালে তথ্য আপলোডের সময় বিভিন্ন ধরনের ভুল হয়েছে। ফলে অনেকের টাকা নির্ধারিত দিনে জমা পড়েনি। তবে এই আবেদনকারীদের জন্য সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে পুনরায় আবেদন বা ফর্ম পূরণ করার সুযোগ আগামী দুই মাস পর্যন্ত থাকবে। সংশোধন সম্পূর্ণ হলে যোগ্য আবেদনকারীরাও প্রকল্পের সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছে সরকার।
কারা পাবেন না অন্নপূর্ণা প্রকল্পের সুবিধা?
সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিম্নলিখিত শ্রেণির আবেদনকারীরা অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকার সুবিধা পাবেন না—
অযোগ্য বা যাচাইয়ে অসফল আবেদনকারী।
অভারতীয় (ভারতের নাগরিক নন) আবেদনকারী।
যাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত বিশেষ অযোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য।
সরকারি বিদ্যালয় বা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
সরকারের নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ আবেদনকারীরা।
সরকারের দাবি, প্রকল্পের অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত প্রয়োজন রয়েছে এমন মহিলাদের কাছেই পৌঁছে দেওয়াই মূল লক্ষ্য।
![]()
যোগ্যদের জন্য আবেদন সংশোধনের সুযোগ
রাজ্য প্রশাসনের বক্তব্য, যাঁদের আবেদন প্রযুক্তিগত কারণে আটকে রয়েছে, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সংশোধন করলে ভবিষ্যতের কিস্তিতে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তাই আবেদনকারীদের সঠিক নথি ও তথ্য দিয়ে আবেদন আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
![]()
অন্নপূর্ণা যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির ৩,০০০ টাকা ইতিমধ্যেই অধিকাংশ উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। তবে অনেকেই এখনও টাকা পাননি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কারা এই প্রকল্পের আওতায় পড়বেন না এবং যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা আসেনি, তাঁদের কী করতে হবে।











