আরামবাগ সেতু-বিতর্ক: হুগলির আরামবাগে বৃহস্পতিবার সকালে সেতু নির্মাণের স্থান হঠাৎ পরিবর্তনের বিরোধে গ্রামবাসীরা রাস্তায় নেমে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। হেলান এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ অবরোধ চলায় খানাকুল–তারকেশ্বর–দিঘরুইঘাট রুট পুরোপুরি থমকে যায়। গ্রামবাসীদের দাবি, আগে যে জায়গায় সেতু হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বহু মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন, কিন্তু প্রশাসন রাজনৈতিক প্রভাব এবং অবৈধ বালি ব্যবসাকে রক্ষা করতে সেতুর স্থান দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

হঠাৎ সেতুর জায়গা বদল, রাস্তায় নেমে ক্ষোভ উগরে গ্রামবাসীদের
হুগলির আরামবাগ ব্লকের হেলান এলাকায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায়। বহুদিন ধরে দাবি থাকা সেতু নির্মাণের সরকারি অনুমোদন মিললেও হঠাৎই স্থান পরিবর্তন করা হয়। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।অবরোধ ঘিরে দ্রুতই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাঁদের মতামত না নিয়েই প্রশাসন একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ছ’ঘণ্টা অবরোধে বিপর্যস্ত যোগাযোগ, ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রী–ছাত্রছাত্রী
খানাকুল–তারকেশ্বর দিঘরুইঘাট রুটে প্রায় ছ’ঘণ্টা গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যযাত্রী, অফিসগামী এবং বিভিন্ন স্কুল–কলেজের ছাত্রছাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।এই সড়কটি একাধিক গ্রামের প্রধান সংযোগ পথ হওয়ায় অবরোধের প্রভাব ব্যাপক পড়ে। অনেক যাত্রী পথেই আটকে পড়েন, কেউ কেউ দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে পার হতে বাধ্য হন।
অবৈধ বালি তোলার দায়ে উপপ্রধানকে কাঠগড়ায় গ্রামবাসীরা
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, মূলত মোইখণ্ড এলাকায় সেতু হওয়ার কথা ছিল। নদীর ধারে এই অঞ্চল থেকেই নাকি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালি তোলা হয়। সেই কাজ যাতে ব্যাহত না হয়, তাই প্রশাসন সেতুর স্থান দূরবর্তী আটঘড়ায় সরিয়ে দিয়েছে—এমনই অভিযোগ স্থানীয়দের।এ বিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুজিত ঘোষের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি সেতুর জায়গা বদল করিয়েছেন।

পুলিশ হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহার, মিলল আশ্বাস
অবরোধের খবর পেয়ে খানাকুল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শুরুতে কিছু উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পুলিশ আশ্বস্ত করে যে সেতু মোইখণ্ডের আগের নির্ধারিত জায়গাতেই তৈরি হবে।এই আশ্বাসের পরেই গ্রামবাসীরা অবরোধ তুলে নেন এবং ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
সব অভিযোগ মিথ্যা’, দাবি উপপ্রধান সুজিত ঘোষের
উপপ্রধান সুজিত ঘোষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ সব ভিত্তিহীন। সেতুর স্থান বদলের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তবে গ্রামবাসীদের দাবি যথার্থ। বালি চুরির অভিযোগ পুলিশ খতিয়ে দেখতে পারে। আমার কোনও আপত্তি নেই।এদিকে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে চাইছেন ঠিকই, কিন্তু লিখিত নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

হুগলির আরামবাগে সেতু নির্মাণের স্থান হঠাৎ বদলে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা বৃহস্পতিবার সকালে হেলান এলাকায় পথ অবরোধ করেন। প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে খানাকুল–তারকেশ্বর রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, অবৈধ বালি তোলার সুবিধার জন্য প্রশাসন সেতুর জায়গা দূরবর্তী এলাকায় সরিয়েছে।











