দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বিপদ কখন আসবে কেউ জানে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হোক কিংবা আচমকা অগ্নিকাণ্ড, প্রথম কয়েক মিনিটেই সঠিক পদক্ষেপ অনেক বড় বিপদ এড়াতে পারে। সেই প্রস্তুতিই এবার হাতে-কলমে দেখানো হল কাকদ্বীপে। আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে মাঠে নেমে মক ড্রিল করল ‘অর্জুন বাহিনী’। সঙ্গে ছিল সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবী দল। জনবহুল বাজার এলাকায় এই মহড়া দেখতে ভিড় জমে যায় সাধারণ মানুষের।
কাকদ্বীপে সামনে এল ‘অর্জুন বাহিনী’
রাজ্যে বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এই বাহিনীর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঘোষণার পর এবার কাকদ্বীপে কার্যত মাঠে নেমে নিজেদের সক্ষমতা দেখাল ‘অর্জুন বাহিনী’।কাকদ্বীপ মহকুমা আরক্ষা আধিকারিকের কার্যালয়ের পাশের বাজার এলাকায় আয়োজন করা হয় এই বিশেষ মহড়ার। জনবহুল বাজারে হঠাৎ আগুন লাগলে কীভাবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেই বিষয়েই মূলত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক প্রদর্শন করা হয়।
আগুন লাগলে কী করবেন? দেখানো হল হাতে-কলমে
মক ড্রিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের সামনে বেশ কিছু জরুরি কৌশল তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে আগুন লাগলে কীভাবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ধোঁয়ায় ভরা জায়গা থেকে কীভাবে নিরাপদে বেরিয়ে আসতে হবে এবং বিপদের সময় প্রাথমিক উদ্ধারকাজ কীভাবে শুরু করা যায়—তা দেখানো হয়।শুধু বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ নয়, সাধারণ মানুষ যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সেই বার্তাও দেওয়া হয় এই মহড়ার মাধ্যমে।
বাজার এলাকাতেই কেন এই মহড়া?
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি শুধু বহুতল ভবন বা বড় শিল্পাঞ্চলেই থাকে না। বাজার, শপিং কমপ্লেক্স কিংবা অন্যান্য জনবহুল এলাকাতেও সামান্য অসতর্কতা থেকে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।সেই কারণেই সাধারণ বাজার এলাকাকে বেছে নিয়ে এই ধরনের মক ড্রিল করা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ আগেভাগে প্রশিক্ষণ পেলে বিপদের সময় ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মহড়া দেখতে ভিড় স্থানীয়দের
সচেতনতামূলক এই আয়োজন দেখতে কাকদ্বীপের বাজারে পথচারী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভিড় জমে যায়। কীভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, কীভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালিত হচ্ছে—তা আগ্রহ নিয়ে দেখেন উপস্থিত মানুষজন।অনেকের কাছেই এই মহড়া ছিল বাস্তব পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেদের নিরাপদ রাখা যায়, তা শেখার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
বাড়বে বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই অন্যতম লক্ষ্য। ‘অর্জুন বাহিনী’র মতো উদ্যোগ সেই প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।এই ধরনের মহড়া নিয়মিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিপদের সময় কী করণীয়, সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়বে। পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলের সদস্যদেরও বাস্তব পরিস্থিতির জন্য আরও প্রস্তুত করে তোলা সম্ভব হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্যে নতুন উদ্যোগ ‘অর্জুন বাহিনী’। সাধারণ মানুষকে জরুরি পরিস্থিতিতে সচেতন ও প্রস্তুত করার লক্ষ্যে কাকদ্বীপে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে মক ড্রিল করল অর্জুন বাহিনী ও সিভিল ডিফেন্সের স্বেচ্ছাসেবীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণ থেকে উদ্ধারকাজ—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কৌশল দেখানো হয় মহড়ায়।











