অবসরের পর অনেকেই কর্মব্যস্ত জীবন থেকে দূরে সরে গিয়ে বিশ্রামে সময় কাটান। কিন্তু বর্ধমানের অরূপ কুমার সাহার জীবনযাপন যেন অন্য গল্প বলে। বয়স ৬১ পেরোলেও অ্যাথলেটিক্সের প্রতি তাঁর টান একটুও কমেনি। বরং জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একসঙ্গে তিনটি পদক জিতে আবারও নজর কেড়েছেন তিনি। কোয়েম্বাটুরের মাঠে তাঁর এই সাফল্যে গর্বিত বর্ধমানের ক্রীড়াপ্রেমীরা।
৬১ বছরেও ট্র্যাকে দাপট, পদক জিতে নজির অরূপের
বয়স বাড়লেও খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসা এবং অনুশীলনের অভ্যাস ধরে রেখেছেন বর্ধমানের বাসিন্দা অরূপ কুমার সাহা। অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক প্রমাণ করেছেন, লক্ষ্য স্থির থাকলে বয়স সাফল্যের পথে একমাত্র বাধা নয়।সম্প্রতি কোয়েম্বাটুরের নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ন্যাশনাল অ্যাথলেটিক্স মিটে অংশ নেন তিনি। ৯ থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় নিজের পারফরম্যান্সের জোরে একটি সোনা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন অরূপ। তাঁর এই কৃতিত্ব প্রমাণ করে, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং দীর্ঘদিনের অনুশীলন একজন খেলোয়াড়কে প্রতিযোগিতার ময়দানে সক্রিয় রাখতে পারে।
লং জাম্প থেকে হার্ডলস—তিন ইভেন্টেই লড়াই
কোয়েম্বাটুরের প্রতিযোগিতায় অরূপ সাহা তিনটি ইভেন্টে অংশ নেন। লং জাম্প, ১০০ মিটার দৌড় এবং ১০০ মিটার হার্ডলসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এই তিনটি ইভেন্টের মধ্যে পদক জিতে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বর্ধমানের এই অ্যাথলিট।বিভিন্ন ধরনের ইভেন্টে অংশ নিতে যেমন শারীরিক সক্ষমতা দরকার, তেমনই প্রয়োজন নিয়মিত অনুশীলন, মনোযোগ এবং প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি। অরূপের সাফল্য সেই অধ্যবসায়েরই পরিচয় বহন করে।
১৩টি রাজ্যের প্রতিযোগীর সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অ্যাথলিটরাও ছিলেন
এই জাতীয় স্তরের অ্যাথলেটিক্স মিটে দেশের ১৩টি রাজ্যের প্রতিযোগীদের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার অ্যাথলিটরাও অংশগ্রহণ করেন। এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনটি পদক জয় অরূপ সাহার কৃতিত্বকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।রাজ্য ও জাতীয় স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও নিজের দক্ষতা তুলে ধরেছেন তিনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স বাড়লেও খেলাধুলার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং মাঠে অনুশীলনের অভ্যাস অটুট রয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি টান
অরূপ সাহার অ্যাথলেটিক্সের প্রতি ভালোবাসা নতুন নয়। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত তিনি। দীর্ঘদিন ধরে শরীরচর্চা ও নিয়মিত অনুশীলন তাঁর জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।অবসর গ্রহণের পরেও মাঠের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন এই শিক্ষক। বয়সের কারণে অনুশীলন থেকে সরে না এসে বরং নিজের সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। তাঁর এই মানসিকতা দেখায়, খেলাধুলা শুধু অল্পবয়সিদের জন্য নয়; উপযুক্ত প্রস্তুতি ও নিজের শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বয়স্করাও সক্রিয় থাকতে পারেন।
তরুণ প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণা
বর্তমানে অনেকের দৈনন্দিন জীবনে মোবাইল ফোন ও দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস বড় জায়গা করে নিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে অরূপ সাহার সাফল্য নিয়মিত শরীরচর্চা ও খেলাধুলার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।তবে তাঁর সাফল্যের বার্তা শুধু তরুণদের জন্য নয়। অবসরপ্রাপ্ত মানুষদের কাছেও এটি অনুপ্রেরণার, কারণ জীবনের একটি পর্যায়ে পৌঁছেও নতুন লক্ষ্য স্থির করা এবং নিজের পছন্দের কাজে সক্রিয় থাকা সম্ভব। অরূপের পদকজয় সেই কথাই আরও একবার তুলে ধরেছে।
বয়স যে সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন বর্ধমানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অরূপ কুমার সাহা। ৬১ বছর বয়সে কোয়েম্বাটুরে আয়োজিত পঞ্চম ন্যাশনাল অ্যাথলেটিক্স মিটে অংশ নিয়ে একটি সোনা ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন তিনি। ৯ থেকে ১১ অক্টোবর নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় লং জাম্প, ১০০ মিটার দৌড় এবং ১০০ মিটার হার্ডলসে নিজের দক্ষতা দেখান অরূপ। তাঁর এই সাফল্য নিয়মিত অনুশীলন, অধ্যবসায় এবং খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসার এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।












