Crime News: ধানক্ষেতের আলে লুকিয়ে বস্তা বস্তা নিষিদ্ধ বাজি! ড্রোন উড়িয়ে পুলিশের হানা, দাঁতনে উদ্ধার প্রায় ১ কুইন্টাল

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের তুরকা গ্রামে ধানক্ষেতের আলে লুকিয়ে রাখা প্রায় এক কুইন্টাল নিষিদ্ধ শব্দবাজি উদ্ধার করল পুলিশ। ড্রোন অভিযানের পর মামলা রুজু করে শুরু তদন্ত।

উৎসবের মরশুমে পুলিশের নজরদারি এড়াতে এবার কি না ধানক্ষেতের আলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল নিষিদ্ধ শব্দবাজি! পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সামনে এল। বাড়ি কিংবা গুদামের বদলে নির্জন কৃষিজমিকে গোপন মজুতের জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশের অনুমান। কিন্তু গোপন সূত্রে খবর পাওয়ার পর ড্রোন উড়িয়ে তল্লাশি চালাতেই সামনে আসে বস্তাভর্তি বাজির সন্ধান। উদ্ধার হওয়া বাজির পরিমাণ দেখে অবাক স্থানীয় বাসিন্দারাও।

দাঁতনের তুরকা গ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযান

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাঁতন থানার অন্তর্গত তুরকা গ্রামে নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালাল পুলিশ। পুজোর আগে অবৈধ বাজির মজুত ও কারবার রুখতে প্রশাসনের নজরদারি চলছিল। এর আগেও ওই এলাকায় নিষিদ্ধ বাজির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।এবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাঠে নামে পুলিশ। বেলদার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আনন্দ মণ্ডল এবং দাঁতন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুবীর মাজির নেতৃত্বে যৌথ তল্লাশি শুরু হয়। অভিযানে সাধারণ নজরদারির পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় ড্রোন প্রযুক্তি।

ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়ল সন্দেহজনক বস্তা

পুলিশি ড্রোনের সাহায্যে ধানক্ষেতের উপর থেকে নজরদারি চালানো হয়। সেই সময় জমির আল বরাবর খড় ও ঘাসের আড়ালে রাখা কয়েকটি বস্তা নজরে আসে। এরপর ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান চিহ্নিত করে পুলিশকর্মীরা মাঠে পৌঁছে তল্লাশি চালান।সেখান থেকেই উদ্ধার হয় একের পর এক বস্তাভর্তি নিষিদ্ধ শব্দবাজি। বসতবাড়ি বা পরিচিত কোনও গুদামের বদলে কৃষিজমির নির্জন অংশে বাজি লুকিয়ে রাখার ঘটনা সামনে আসায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

উদ্ধার প্রায় এক কুইন্টাল নিষিদ্ধ শব্দবাজি

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া বাজির আনুমানিক ওজন প্রায় এক কুইন্টাল। বিপুল পরিমাণ বাজি খোলা মাঠে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।এ ধরনের বাজির অনিয়ন্ত্রিত মজুত থেকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকতে পারে। বিশেষ করে উৎসবের আগে অবৈধ বাজির মজুত ও বিক্রি রুখতে প্রশাসনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধার হওয়া বাজি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর পিছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

নিষিদ্ধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান পুলিশের

পুলিশের এক আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ শব্দবাজি পরিবেশের ক্ষতি করে এবং আইনবিরুদ্ধভাবে এর উৎপাদন ও ব্যবহার রুখতে প্রশাসন পদক্ষেপ করছে। কিছু ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে গোপনে এই কারবার চালানোর চেষ্টা করছিলেন বলে পুলিশের সন্দেহ।ঘটনায় ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে দাঁতন থানার পুলিশ। বাজিগুলির উৎস, মজুতের উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

পুজোর আগে অবৈধ বাজি রুখতে বাড়ছে নজরদারি

দুর্গাপুজো ও পরবর্তী উৎসবের সময় নিষিদ্ধ শব্দবাজির ব্যবহার রুখতে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দাঁতনের এই অভিযান দেখাল, সন্দেহজনক মজুতের খোঁজ পেতে প্রযুক্তির সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে।তবে শুধু বাজি বাজেয়াপ্ত করাই নয়, অবৈধ সরবরাহ ও বিক্রির উৎস খুঁজে বের করাও প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তে কারও জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

দুর্গাপুজোর আগে নিষিদ্ধ শব্দবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বড়সড় সাফল্য পেল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানার পুলিশ। তুরকা গ্রামের নির্জন ধানক্ষেতের আলে খড় ও ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বস্তাভর্তি নিষিদ্ধ শব্দবাজি। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেলদা মহকুমা পুলিশ ও দাঁতন থানার যৌথ বাহিনী ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি চালায়। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া বাজির আনুমানিক ওজন প্রায় এক কুইন্টাল। ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a comment