রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক Ashok Kirtania। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বার্তা দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, টিভির পর্দায় ছেলের মন্ত্রী হওয়ার খবর দেখে আবেগে ভাসলেন তাঁর বৃদ্ধা মা Ahalya Kirtania।
বনগাঁ থেকে নবান্ন— উত্থানের নতুন অধ্যায়
২০২১ সালে প্রথমবার বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন অশোক কীর্তনীয়া। এবারও বিপুল ভোটে জয় ছিনিয়ে এনে দলের আস্থা অর্জন করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় সংগঠন আরও শক্তিশালী করতেই তাঁকে খাদ্য দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব নিয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
নবান্নে দায়িত্ব গ্রহণের পর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট ভাষায় বার্তা দেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “মানুষের খাবার নিয়ে কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।” শুধু বর্তমান নয়, অতীতের নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। কোনও ডিলার বা অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের আমলের প্রসঙ্গও সামনে
রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী Jyotipriya Mallick-এর আমলে খাদ্য দফতরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলায় তদন্তভার যায় ইডির হাতে এবং পরে গ্রেফতারও হন তিনি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন খাদ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছেলের সাফল্যে আবেগে ভাসলেন মা
খবর পৌঁছতেই বনগাঁর রামনগর রোডের বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। বৃদ্ধা মা Ahalya Kirtania বলেন, “আজ আমার খুব আনন্দের দিন। ও যেন সাধারণ মানুষের ভালোর জন্য কাজ করে।” পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে জল্পনা
নতুন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র প্রথম মন্ত্রিসভায় অশোক কীর্তনীয়াকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়াকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা এবং মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
রাজ্যের নতুন খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিলেন Ashok Kirtania। নবান্নে প্রথম বৈঠকেই অতীতের নথি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। এদিকে ছেলের মন্ত্রী হওয়ার খবরে আবেগাপ্লুত মা Ahalya Kirtania-র একটাই বার্তা— “মানুষের ভালোর জন্য কাজ করুক।”










